রাজধানীর কুড়িল হতে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১৩ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩০০ ফুট প্রশস্ত সড়কের নামকরণ করা হচ্ছে ‘মুক্তিযোদ্ধা সরণি’। পূর্বাচল প্রকল্প ঘিরে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এ সড়কের নতুন নামকরণের বিষয়টি এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক)। রাজধানীবাসীর বিনোদনের চাহিদা মেটানো এ সড়কের নামকরণের বিষয়টি গত ১৯ মার্চ রাজউকের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বোর্ড সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি সুপারিশও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন,
“একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা এ বিষয়টি তুলে ধরেন। সেখানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন ৩০০ ফুট সড়কের নাম ‘মুক্তিযোদ্ধা সরণি’ করার প্রস্তাব দেন। তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে রাজউকে একটি চিঠির মাধ্যমে সুপারিশ করেন। এরপর মেয়রের সুপারিশের আলোকে রাজউকের বোর্ড সভায় উপস্থাপনা করে সর্বসম্মতিক্রমে ‘মুক্তিযোদ্ধা সরণি’ করার বিষয়টি পাস করেছি।”
রাজউকের বোর্ড সভা সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ‘বীরমুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন পূর্বাচল সংযোগ সড়কটির নামকরণ ‘মুক্তিযোদ্ধা সরণি’ করার প্রস্তাব করেন। পরে তিনি গত ২৩ ডিসেম্বর রাজউক চেয়ারম্যানকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও দেন। এরপর রাজউকের সর্বশেষ বোর্ড সভায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত ও প্রায় ১৩ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্বাচল সড়কটি ‘মুক্তিযোদ্ধা সরণি’ নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান যারা রেখেছেন তাদের নামে ৩০০ ফুট সড়কের নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এ সড়কের নাম ‘মুক্তিযোদ্ধা সরণি’ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হবে। আমরা এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করব।”
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৪ সালে পূর্বাচল নতুন শহরের সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ তৈরির জন্য রাজউক ৩০০ ফুট সড়ক প্রকল্পটি হাতে নেয়। রাস্তা তৈরির পর দু’পাশে ১০০ ফুট দৃষ্টিনন্দন লেক খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লেকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রথম দফায় ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে লেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার রাস্তার দুইপাশে ১০০ ফুট চওড়া লেক হচ্ছে। এ ছাড়া কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার আট লেন ও বালু নদ থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে থাকবে।
তারা আরও জানান, জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রকল্পের ৩০০ ফুট রাস্তার উভয় পাশে বিদ্যমান খালের প্রপার্টি লাইনের সার্ভিস রোড দুটির পরিবর্তে এক্সপ্রেসওয়ের পাশে একটি করে তিন লেনের সার্ভিস রোড থাকছে। এ প্রকল্পের সঙ্গে উত্তর থেকে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ থেকে উত্তরের ট্রাফিক প্রবাহের জন্য রয়েছে তিনটি ড্যাপ রোড। এ রোডগুলোর সঙ্গে পূর্ব-পশ্চিমমুখী ট্রাফিকের সংযোগ থাকবে, যাতে সব ধরনের যানবাহন রোড নেটওয়ার্কের আওতায় আসে। কুড়িল থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ড্যাপের রাস্তা সংযোগস্থলে নিরবচ্ছিন্ন ট্রাফিক প্রবাহের জন্য তিনটি দৃষ্টিনন্দন ‘এট গ্রেড ট্রাফিক ইন্টারসেকশন’ থাকবে। প্রকল্পের আশপাশের এলাকা যেমনÑ নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, ঢাকা সেনানিবাস, বিমানবন্দর, কুড়াতলী, কালা চাঁদপুরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য অত্যাধুনিক নির্মাণশৈলীর জিআরপি পাইপের মাধ্যমে কুড়িল থেকে বোয়ালিয়া পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে খালের প্রপার্টি লাইনের বিদ্যমান ওয়াকওয়ের নিচ দিয়ে পাইপলাইন সংযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রকল্পের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রয়েছে এমআরটি ও ফ্লাইওভারের ব্যবস্থা। এ ছাড়া প্রকল্পে বিনোদনের জন্য লেকের পাশে থাকবে গ্রিন বেল্টসহ দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে ও ওয়াটার ট্যাক্সি।