দীর্ঘ আট বছর পর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত শুক্রবার একটি নিয়োগ পরীক্ষাও হয়েছে। কিন্তু এই নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষাটি বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বেশিরভাগ প্রার্থী।
কয়েকজন নিয়োগ প্রার্থী দেশ রূপান্তরকে অভিযোগ দিয়ে জানান, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক রুমানা শাহীন শেফা প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি ইংরেজি বিষয়েই লেখাপড়া শেষ করেছেন। ফলে তার ইংরেজিতে পারদর্শিতা বেশি। আর তাকে নিয়োগ দিতেই কৌশল করে নিয়োগ পরীক্ষার দশটি প্রশ্নের মধ্যে সাতটি প্রশ্নই ইংরেজিতে করা হয়েছে যার উত্তরও ইংরেজিতে দেওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটা রীতিমতো অনিয়ম। কারণ, পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম দুটিতেই প্রশ্ন ও উত্তর লেখার স্বাধীনতা থাকা উচিত। কাকে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হবে নিয়োগ কমিটি আগেই কয়েক দফায় সভা করে চূড়ান্ত করেছে। নিয়োগ পরীক্ষা শুধু ‘আইওয়াশ’ ছিল।
নিয়োগ প্রার্থী ও ভিকারুননিসার কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক হাসিনা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগ ব্যক্তিকেন্দ্রিক করা হয়েছে। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষককে কীভাবে নিয়োগ দেওয়া যায় তার সকল কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে এই পরীক্ষায়। নিয়োগ পরীক্ষার পরদিন গত ২৭ এপ্রিল ম্যানেজিং কমিটি এক বৈঠকে রুমানা শাহীন শেফাকে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ হিসেবে চূড়ান্ত করেছে।’
এদিকে পরীক্ষায় এমন অনিয়মের অভিযোগ তুলে গতকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন অধিকাংশ প্রার্থী। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিপুল অর্থের বিনিময়ে ভিকারুননিসার ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক শেফাকে নিয়োগ দিতেই এই কৌশল করেছেন। শুধু তাই নয়, অন্য প্রার্থীরা বেশি নম্বর পেলেও তাদের কমিয়ে দিয়ে রুমানা শাহীন শেফাকে নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ‘এসব অভিযোগ তুলে পরীক্ষাটি বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার জন্য অনুরোধ করেছেন তারা।
তবে সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ভিকারুননিসার বর্তমান অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ফেরদৌসি বেগম। তিনি বলেন, ‘ভিকারুননিসার মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন চালাতে হলে ইংরেজি ও বাংলায় পর্যাপ্ত দক্ষতা প্রয়োজন, সে বিষয়টিকে মাথায় রেখে আমরা প্রশ্ন প্রণয়ন ও উত্তর পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি। যারা ভালো করতে পারেননি তারাই নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ তুলছেন। কাউকে বাতিল বা বিপদে ফেলতে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হয়নি।’
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, ‘নিয়োগ কার্যক্রমে একটি কমিটি ছিল, সেখানে সরকারি প্রতিনিধিও ছিলেন, তাই নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হয়নি। কেউ এ নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে কোনো প্রশ্নও তোলেননি। অনেকে নিয়োগ পেতে আগেই নানা মহলের মাধ্যমে তদবির করেছিলেন, এমন একজন প্রার্থী নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’