সম্মতি না নিয়ে ঘুমন্ত এক নারীর সঙ্গে যৌন মিলন করার দায়ে অ্যালেক্স হেপবার্ন নামের অস্ট্রেলিয়ান এক ক্রিকেটারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইংল্যান্ডের একটি আদালত।
ইংল্যান্ডের কাউন্টি টিম উস্টারশায়ারের সাবেক খেলোয়াড় ছিলেন হেপবার্ন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগটা অনেক আগের।
১ এপ্রিল, ২০১৭ সাল। সতীর্থ জো ক্লার্ককে নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটেই ছিলেন হেপবার্ন। ওই রাতেই এক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন ক্লার্ক। রাত গভীর হলে কোনো এক কাজে রুমের বাইরে যান ক্লার্ক। এই সুযোগে ক্লার্কের বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ওই নারীকে ধর্ষণ করেন হেপবার্ন। ক্লার্ক না অন্য কারোর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করছেন অন্ধকার রুমে প্রথমে বুঝতে পারেননি ভুক্তভোগী নারী। পরে ভুল ভাঙে তার।
ওই নারীর অভিযোগ, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, সেইসময় কোনওরকম সম্মতি না নিয়েই হেপবার্ন তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ বছরের শাস্তি পেতে হলো হেপবার্নকে।
মামলার ততন্তে দেখা যায়, ক্রিকেটের বাইরে ২০১৬ সাল থেকেই নিষিদ্ধ এক খেলায় মেতে উঠেছিলেন হেপবার্ন ও তার সতীর্থ ক্লার্ক। কে কতজন নারীর সঙ্গে রাত্রিযাপন করতে পারেন- সেটাই ছিল খেলার মূল উদ্দেশ্য। এই খেলার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে নারীদের সঙ্গে নিয়মিত অশ্লীল মেসেজের আদান-প্রদান হতো তাদের। হেপবার্ন ও ক্লার্কের এই খেলার বলি ওই নারী।
রায়ে হেপবার্নের উদ্দেশে বিচারক জিম টিন্ডাল বলেন, “আপনি ভেবেছিলে যে, নারীদের কাছে আপনি ঈশ্বরের উপহার। আপনি ওই মুহূর্তটায় ওই নারীকে একজন নারী হিসেবে না দেখে মাংসের টুকরো হিসেবে দেখেছিলেন। নারীর প্রতি কোনো সম্মান ছিল না।”
অবশ্য ধর্ষণের অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছিলেন হেপবার্ন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যা হয়েছে, তা দুজনের সম্মতিতেই হয়েছে।