বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, গ্যাস ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে তৈরি পোশাক খাত পরিচালনায় ব্যয় বাড়বে। বিভিন্ন বায়িং হাউজ ও এজেন্সির মাধ্যমে পণ্য কেনার কারণে এ খাতের উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এসব ব্র্যান্ড যাতে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনতে পারে, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে নির্দিষ্টকালের জন্য প্রণোদনা জরুরি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন’ শিরোনামের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর অনুষ্ঠানের শুরুতে তৈরি পোশাক খাতের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। কারখানাগুলো এখন অনেক বেশি সক্ষম ও উন্নত মানের পণ্য উৎপাদন করছে। মন্ত্রী জানান, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ ও চেকোস্লাভাকিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগির এসব দেশের সঙ্গে চুক্তি হবে। ব্রাজিলের সঙ্গেও চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ খাত ইতিবাচক সংকটে ভুগছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তোলার জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা খুবই জরুরি। তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক খাতকে টেকসই করার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানোর জন্য সঠিক নীতিমালা গ্রহণ ও এর বাস্তবায়ন এবং যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। ওসামা তাসীর বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রায় ১৮ শতাংশ হয়ে থাকে তৈরি পোশাক খাতে, যার আর্থিক মূল্য ৪৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরই দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন, জ্বালানি ও কমপ্লায়েন্স সম্পর্কিত ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম কমে যাওয়া ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য ক্রেতার ক্রমাগত চাপে বিশ^বাজারে আমাদের তৈরি পোশাক খাতের বাজার হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আগামী ৫ বছরের জন্য এ খাতের সব পণ্যের (প্রচলিত ও অপ্রচলিত) জন্য ৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়া জরুরি। এর পরিপ্রেক্ষিতে টিপু মুনশি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশি পোশাক পণ্যের দাম প্রতি বছর গড়ে দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে কমছে। এ অবস্থায় গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে ৬০ শতাংশ, যা পোশাক খাতে উৎপাদান ব্যয় প্রায় ৯ শতাংশ বাড়িয়ে দেবে মুক্ত আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, বেনজীর আহমেদ, বিজেএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মীরান আলী, ইনামুল হক খান, মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এইচঅ্যান্ডএমের প্রতিনিধি রজার বেস্ট সেলার উপস্থিত ছিলেন।