দেশের পরিবহন সেক্টরে ১০ নম্বর সিগন্যাল চলছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘বর্তমানে দেশে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত চলছে। যখন দেশে ঘূর্ণিঝড় আসে তখন সরকার মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। আমাদেরকেও সেই ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।’ পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মালিক-শ্রমিক নেতাদের এক যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শাজাহান খান বলেন, আগের তুলনায় পরিবহন সেক্টরে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। কোনো সড়কে চাঁদাবাজি করা যাবে না। কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই কারণে এই সেক্টরে ধস নামবে। এক. দুর্ঘটনা, দুই. চাঁদাবাজি। আমরা দুর্ঘটনা এবং চাঁদাবাজি দুটোই কমাতে চাই। এ সময় টকশোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজ টকশো শুনলে মনে হয়, মালিক-শ্রমিকদের ফাঁসি দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আইন কঠোর করলে, চালকদের ফাঁসি দিয়ে দুর্ঘটনা কমবে না। এজন্য বিজ্ঞানসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেল, নসিমন, করিমন জাতীয় পরিবহনকে দায়ী করে তিনি বলেন, এগুলো বন্ধ করতে হবে। ওবায়দুল কাদের সাহেব এগুলো বন্ধও করেছিলেন। কিন্তু আমাদের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বাধার কারণে এখন আবার আগের চিত্রে পৌঁছে গেছে।
সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, পরিবহন খাত স্মরণকালের সর্বোচ্চ বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। এখন গাড়ি চালালে বা না চালালেও জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু অন্যান্য খাত নিয়ে সরকারের এমন মাথাব্যথা নেই। ডাক্তারের রোগী মারা গেলেও কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হয় না। আপনি রাস্তা ঠিক করে দেন। কোনো গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটাবে না।
অনুষ্ঠানে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, পরিবহন সেক্টরের অনেক সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলো সমাধান না করলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না। এজন্য সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।