নুসরাত হত্যা

শামীমসহ ৫ জন বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। এদিকে দুপুরে পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষা এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন সময় টেলিভিশনের ফেনী ব্যুরো অফিসের প্রতিবেদক আতিয়ার হাওলাদার সজল। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সজলের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম। ফেনী জজ আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানি দেশ রূপান্তরকে জানান, নুসরাত হত্যা মামলার পাঁচ আসামিকে আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম। পরে বিচারক শাহাদত হোসেন শামীম ও জাবেদ হোসেনকে দুদিন এবং ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন ও মহিউদ্দিন শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘রিমান্ডে নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে শাহাদত হোসেন শামীম ও জাবেদ হোসেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বাকিদের নুসরাত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।’

দেশব্যাপী আলোচিত এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ নয়জন এখন পর্যন্ত আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে নুরউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মণি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ রয়েছেন।

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে পাল্টা জিডি : পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষা এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন সাংবাদিক সজল।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর সোনাগাজী মডেল থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনাটিকে গণমাধ্যমসহ সবার কাছে ‘আত্মহত্যা চেষ্টা’ বলে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া ছিলেন। পরে ৮ এপ্রিল দুপুরে তিনি (সজল) এবং আরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সংবাদ প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে ওসি মোয়াজ্জেমের কক্ষে যান। ভিডিও ক্যামেরায় বক্তব্য ধারণের আগে ওসি মোয়াজ্জেম জানান, তার কাছে ২৭ এপ্রিল রেকর্ড করা নুসরাতের দুটি জবানবন্দির ভিডিও ফাইল রয়েছে। সেটা দেখলেই বোঝা যাবে যে নুসরাতের মনে আগে থেকেই আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। ভিডিও ফাইল দুটি সম্প্রচারের জন্য চাইলে ওসি মোয়াজ্জেম স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে অতি উৎসাহী হয়ে নিজেই সজলের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে স্থানান্তর করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত অন্য গণমাধ্যমকর্মীদেরও তিনি ভিডিও ফাইল দুটি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এর আগে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও অনুমতি ছাড়া নেওয়ার অভিযোগ এনে গত ১৪ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় আতিয়ার সজলের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। সোনাগাজী মডেল থানার ওসির পদ থেকে প্রত্যাহারের চার দিন পর ওই জিডি করেছিলেন তিনি।

ওই জিডিতে মোয়াজ্জেম বলেছিলেন, নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়ার পর থেকে অনেক সাংবাদিক এবং বহিরাগত লোকজন থানায় তার কক্ষে আসা-যাওয়া করেন। তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন টেবিলে রেখে মাঝে মধ্যে শৌচাগার ও মসজিদে নামাজ পড়তে যান। এই সুযোগে গত ৮ এপ্রিল সজল তাকে না জানিয়ে নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও দুটি তার (সজল) মোবাইলে নিয়ে নেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।