রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দীন সড়ক এলাকা থেকে দুই কিশোরী গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার ভোরে একই বাসায় কর্মরত ওই দুই কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাশের বাসার একটি ছাদ থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তারা হলো হালিমা আক্তার (১৪) এবং রুবি খাতুন (১৭)। ঘটনার দুদিন পরও তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা দেশ রূপান্তরকে জানান, জসিম উদ্দিন সড়কের ৪০ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলায় গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মাজেদ মিয়ার ফ্ল্যাটে কাজ করত হালিমা ও রুবি। ওই বাসার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) ফুটেজে দেখা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৩টা ৩২ মিনিটে বাসার দরজা খুলে ওই দুই কিশোরী সিঁড়ি দিয়ে একসঙ্গে ছাদে ওঠে। এ সময় তাদের সঙ্গে আর কাউকে দেখা যায়নি। পরে ভোরের দিকে পাশের একটি একতলা বাড়ির ছাদ থেকে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওসি তপন বলেন, ‘দুই গৃহকর্মীর একসঙ্গে এমন মৃত্যুর কারণ জানার জন্য গৃহকর্তা মাজেদ মিয়া এবং বাড়িটির নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মাজেদ মিয়া জানিয়েছেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর ওই দুই কিশোরী বাইরে বেরিয়েছে। পরে তিনি (মাজেদ) ফজরের নামাজ পড়ার জন্য উঠলে ঘটনা সম্পর্কে জেনেছেন। তারা কী কারণে ছাদে গিয়েছে সে বিষয়ে গৃহকর্তা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে, নাকি কেউ তাদের ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে।’
উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গৃহকর্তা মাজেদ এবং গৃহকর্মী রুবির বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার একই এলাকায়। আর হালিমার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।
এ ঘটনায় হালিমার মা খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। এই মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের আলামত পাওয়া গেলে নতুন করে হত্যামামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি তপন।
উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ওই গৃহকর্মীরা বাসা থেকে একটি ব্যাগ নিয়ে বের হয়েছিল। ওই ব্যাগের জিনিসপত্রের সূত্র ধরেই মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।’ তবে ওই ব্যাগে কী কী জিনিস পাওয়া গেছে, তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।