‘জিহাদি বধূ’ শামীমা বেগম সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘আইএসের ওই সাবেক কর্মী বাংলাদেশের মাথাব্যথার বিষয় নয়।’ গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘শামীমা বেগম বাংলাদেশি নাগরিক নয়, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশে ফিরলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হতো।’ শামীমা আইএসে যোগ দিতে দুই বান্ধবীর সঙ্গে যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন।
সেখানে নেদারল্যান্ডস থেকে যাওয়া এক জঙ্গিকে বিয়ে করেন তিনি। দুবার গর্ভপাতের শিকার হওয়ার পর সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে এক ছেলেসন্তানের জন্ম দেন শামীমা। জেরাহ নামে তার সেই সন্তানও আর বেঁচে নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শামীমা বেগমকে নিয়ে আমাদের করার কিছু নেই। সে বাংলাদেশি নাগরিক নয়। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য সে কখনো আবেদন করেনি। তার জন্ম ইংল্যান্ডে, তার মা একজন ব্রিটিশ।’
গত ফেব্রুয়ারিতে শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় যুক্তরাজ্য সরকার। তখন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার নাগরিকত্বের বিষয়ে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাজ্য তার নাগরিকত্ব কেড়ে নিলেও তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বেন না।’ দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শামীমা বেগমের বাবা বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। তার মায়ের মতো তার বাবার জন্মও বাংলাদেশে। সুতরাং ২১ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত শামীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার দাবিদার।
তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর শুরু থেকেই স্পষ্ট করে বলে আসছে, শামীমা বেগম বাংলাদেশের নাগরিক নয়। জন্মসূত্রে তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক। দ্বৈত নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়ে তিনি কখনো আবেদন করেননি। সুতরাং তাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের পর শামীমা যদি পিতামাতার জন্মসূত্রে বাংলাদেশে আসত, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কী হতোÑ এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে তার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ নীতি অনুসরণ করি আমরা। তা হলো মৃত্যুদণ্ড, আর কিছু নয়। তাকে (শামীমা) কারাগারে রাখা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শামীমা যদি রাষ্ট্রহীন থেকে যান তা দুঃখজনক। তবে এতে বাংলাদেশের কিছু করার নেই। অনেক মানুষকেই আমরা রাষ্ট্রহীন থাকতে দেখি।’
ড. মোমেন বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এবং সব জঙ্গিকে নির্মূল করার ক্ষেত্রে এ দেশ অনুকরণীয়।’ জঙ্গিবাদের বিস্তার ঠেকাতে অন্য সব দেশকেও বাংলাদেশ সরকার সমর্থন দিচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।