ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওড়িশা রাজ্যের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণিতে ল-ভ- হয়ে গেছে তীর্থযাত্রীদের লীলাভূমি পুরী জেলা। পুরীর অন্যতম আকর্ষণ ১২ শতকে নির্মিত জগন্নাথ দেবের মন্দির। ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাচীন এই মন্দির দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করে প্রতি বছর।
ফণির আঘাতে এবারই প্রথমবারের মতো জগন্নাথ মন্দিরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিতদের বরাত দিয়ে নিউজনেশন জানায়, জগন্নাথ মন্দিরের মূল ফটকের বাইরে জয়া এবং বিজয়া নামে দুই দ্বাররক্ষকের মূর্তি রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বৈকুণ্ঠে ভগবান বিষ্ণুর দ্বাররক্ষক হিসেবে থাকে জয়া এবং বিজয়া। ঝড়ের আঘাতে এই দুই মূর্তির একটির ক্ষতি হয়েছে।
মন্দিরের পান্ডা লক্ষ্মীকান্ত জানান, ‘১২ শতকে নির্মিত মন্দিরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাতের আগেই মন্দিরের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়েছিল।’ জগন্নাথ মন্দিরের সামনের রাস্তার দোকানপাট মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঝড়ের দাপটে। মন্দিরের সামনে বিশাল চওড়া যে গ্র্যান্ড রোড ধরে জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরামের রথ বের হয়, সেই রাস্তাজুড়েও ছড়িয়ে আছে ধ্বংসলীলার চিত্র।
মন্দিরশহর নামে খ্যাত ভুবনেশ্বরের অবস্থাও ভালো নয়। গোটা শহর অন্ধকারে ঢেকে আছে। অধিকাংশ রাস্তাই ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের কারণে আটকে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে না। ফণির তাণ্ডবে ল-ভ- ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ওড়িশা সরকার জানিয়েছে, ঝড়ের দাপটে বিপুল ক্ষতি হয়েছে বিমানবন্দরের যন্ত্রপাতির।
পুরীর অধিকাংশ বৈদ্যুতিক খুঁটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করা যাচ্ছে না। পুরী থেকে কোনার্ক যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখনো উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে চুত্তাক, খুদ্রা ও জগতসিংপুর জেলার অবস্থা সম্পর্কে এখনো কোনো সংবাদ জানা যায়নি।
বিশেষ ত্রাণ কর্মকর্তা কমিশনার বি পি শেঠি বলেন, পুরী, নয়াগড় ও কেন্দ্রপাড়া জেলায় ঝড়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভুবনেশ্বরে ঝড় বয়েছিল ১৪০ কিলোমিটার গতিতে। পরে কটক ও জাজপুরের কাছে সেই গতি কমে ১০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ায়।