আইনি জটিলতায় স্থগিত থাকা নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের ভোট গ্রহণ চলছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৩৬ হাজার ১৭২ জন। পদটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুইজন।
রোববার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটাররা কেন্দ্রে এসে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করছেন। তবে অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় ভোটারদের উপস্থিতি কম পরিলক্ষিত হয়েছে।
উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের ভোটার রফিকুল ইসলাম (৫০) বলেন, “সকাল থেকে এলাকার নারী-পুরুষ নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করছেন। একটি পদের নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের তেমন আগ্রহ নেই।”
বেলা ১০টার দিকে কাঁঠালী ইউসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১৭৪টি। সেখানে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯টি। একই সময়ে কাঁঠালী ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১৫০টি। কেন্দ্রটিতে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২১৫টি।
উপজেলাটিতে প্রথম দফায় গত ১০ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সে সময় আইনি জটিলতায় স্থগিত থাকে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন। তবে নারী ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সে সময়ে।
প্রথম দফার ওই নির্বাচনে গত ১১ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিণ্টু (নৌকা) ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর (চিংড়ি মাছ)।
মনোনয়নপত্র বাছাইকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম।
এরপর আপিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই রায় বহাল রাখেন জেলা প্রশাসক। উচ্চ আদালতে আপিলের রায়ে বৈধতা ফিরে পান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর।
পরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনছার আলী মিন্টু ৭ মার্চ সুপ্রিম কোটে বাহাদুরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লিভ টু আপিল করলে ছয় সপ্তাহের জন্য বাহাদুরের প্রার্থিতা স্থগিত হয়। ফলে পদটিতে নির্বাচন বন্ধ থাকে।
জলঢাকা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, “আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর উচ্চ আদালতে ১৮১১ নম্বর রিট করে তার প্রার্থিতা ফেরত পান। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনছার আলী মিন্টু সুপ্রিম কোর্টে ৭৩১ নম্বর লিভ টু আপিল করেন। ওই আপিলে আদালত আব্দুল ওয়াহেদের প্রার্থিতা ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন।
এরপর গত ২২ এপ্রিল লিভ টু আপিলের শুনানীকালে ৭৩১ নম্বর পিটিশনটি খারিজ হয়। আদালতের ওই নির্দেশনা পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন স্থগিত থাকা চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন ৫ মে অনুষ্ঠানের জন্য ২৩ এপ্রিল গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
তিনি বলেন, “বোববার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসার মোতায়েন রয়েছে।”