শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য

কোষ্ঠকাঠিন্য শিশুদের ক্ষেত্রে পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রায় সব বাবা-মা এই সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ হচ্ছে শক্ত ও শুকনো পায়খানা হওয়া। প্রায়ই এর সঙ্গে শিশুরা ব্যথার অভিযোগ করে থাকে। অনেক সময় পেট ব্যথা এবং পেট ফাঁপাও থাকতে পারে। কোনো কোনো সময় পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলে বাসাতেই এর সমাধান করা সম্ভব। তবে সমস্যা তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

প্রতিকার

 শিশুকে পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে। পরিমাণমতো পানি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়ে যায়। শিশুদের দৈনিক অন্তত তিন থেকে চার গ্লাস পানি খাওয়া উচিত।

 শিশুকে বিভিন্ন ধরনের ফল খেতে দিতে পারেন। অনেক সময় শিশুরা ফল খেতে চায় না। সেক্ষেত্রে ফলের রস খেতে দিন।

 শিশুর খাবার তালিকায় আঁশযুক্ত খাবার যেমন : ছোলা, ডাল ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি রাখতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।

 চকলেট ও চিনিজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়। এ ছাড়া বাইরের খাবার বিশেষ করে বার্গার, পিৎজা ইত্যাদি খাবার এড়িয়ে চলতে উৎসাহিত করুন। শিশুদের ঘরে প্রস্তুতকৃত খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত করে তুলুন।

 শিশুদের কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক ও অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান থেকে বিরত রাখতে হবে। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী।

 কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ওই সময় শিশুকে চর্বিযুক্ত খাবার ও কলা খাওয়ানো উচিত নয়। এতে সমস্যা তীব্র হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য করতে পারে এমন সব খাবারও এ সময় এড়িয়ে চলতে হবে।

 অনেক সময় ঠিকমতো পায়খানা না করে চেপে রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা যায়। তাই শিশুকে নিয়মিত পায়খানা করার অভ্যাস করাতে হবে। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই পায়খানা করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। প্রতিবার টয়লেটে গেলে অন্তত পাঁচ থেকে ১০ মিনিট সময় নিতে হবে।

 শিশুকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে হবে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কোষ্ঠকাঠিন্য করতে পারে। খাবারের জন্য জোরাজুরি করলেও শিশুদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। বাবা-মাকে এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

 শিশুকে শরীরচর্চার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলুন। এতে পরিপাকতন্ত্রের ক্রিয়াশীলতা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় শিশুর পেটে ম্যাসাজ করলেও উপকার পাওয়া যায়।

 সমস্যার তীব্রতা বেশি হলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে যদি নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 তীব্র পেটে ব্যথা

 জ্বর

 বমি

 পেট ফুলে যাওয়া

 পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া 

 হঠাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় ওজন কমে যাওয়া

 পায়ুপথের চারপাশের চামড়ায় ক্ষত পরিলক্ষিত হওয়া।