রেজা কিবরিয়াই গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মোস্তফা মহসীন মন্টুকে সরিয়ে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ড. রেজা কিবরিয়াকে। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পুনর্গঠিত ১১১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এই কমিটি ঘোষণা করেন। নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আছেন প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনই। চমক হিসেবে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দেন আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা। পরে ওই নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জের একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি।

নানা কারণে দলের মধ্যে ‘কোণঠাসা’ বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুকে নতুন কমিটিতে এক নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। পরে মন্টু টেলিফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আর রাজনীতির সঙ্গে থাকব না।’

নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত মোকাব্বির খানকে নতুন কমিটিতে সভাপতি পরিষদে রাখা হয়েছে। ১৩ সদস্যের পরিষদে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) মোকাব্বিরের অবস্থান ষষ্ঠ। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই নেতাকে জোটের প্রধান শরিক বিএনপি ‘জাতীয় বেইমান’ও বলেছিল। শপথ নেওয়ার পর তাকে গণফোরাম থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।

মোকাব্বির ছাড়াও কমিটিতে বড় পদ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ। আওয়ামী লীগের সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীকে সুব্রত চৌধুরীর সঙ্গে দলের কার্যকরী সভাপতি করা হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে গণফোরামে যোগ দেন তিনি এবং পাবনার একটি আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে হেরে যান। সাইয়িদ ও সুব্রত আবার সভাপতি পরিষদেরও সদস্য। তবে কোনো পদেই রাখা হয়নি একাদশ সংসদে নির্বাচিত গণফোরামের আরেক এমপি আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে। অবশ্য শপথ নেওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত দাবি করে শুরুতেই ফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি ও তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রথমে শপথ নেন গণফোরামের সুলতান মনসুর। এরপর শপথ নেন মোকাব্বির। নানা জল্পনা-কল্পনার পর এপ্রিলের শেষ দিকে শপথ নিয়েছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত পাঁচ এমপিও। তবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেননি। পরে তার বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল হয়। সেখানেই কাউন্সিলররা এই নেতৃত্ব নির্ধারণ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘এই কমিটি এক বছর দায়িত্ব পালন করবে। এই সময়ের মধ্যে একটি কাউন্সিল করে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে।’

১১১ সদস্যের নতুন কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ খালি রয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমরা পরে এসব সম্পাদকীয় পদ পূরণ করব।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন। পরে নতুন সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়াও বক্তব্য দেন। মোকাব্বির খানকে কমিটিতে রাখার বিষয়ে নতুন সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা তার কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাবে সন্তুষ্ট। ফলে তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।’

এ সময় সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, রেজা কিবরিয়া, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক হোসেন, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।