ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে সাত রাজ্যের ৫১ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে আজ। এই ধাপে আসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে উত্তর প্রদেশের আমেথি এবং রায় বেরেলি। গতকাল রবিবার বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী তার সমর্থক ও ভোটারদের আমেথি ও বেরেলিতে কংগ্রেসকে ভোট দিতে আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আমেথিতে কংগ্রেসের পক্ষে রাহুল গান্ধী এবং বেরেলিতে সোনিয়া গান্ধী দাঁড়িয়েছেন। উত্তর প্রদেশে ভারতীয় জনতা পার্টিকে ঠেকাতে কংগ্রেস গত বছর বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে জোট গড়ার কথা ছিল। বিশ্লেষকরা এই জোট না হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও মায়াবতীর গতকালের আহ্বান উত্তর প্রদেশের ভোটের রাজনীতির হিসাব পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এক বিবৃতিতে মায়াবতী বলেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি এবং কংগ্রেস একই রকম। আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো জোট গড়িনি, কিন্তু বিজেপিকে হারাতে আমাদের জোট আমেথি এবং রায় বেরেলিতে কংগ্রেসকে ভোট দেবে। চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণে জনগণ এসপি-বিএসপি জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, যা এরমধ্যেই বিজেপিকে শঙ্কায় ফেলেছে। এই জোট শুধু নতুন প্রধানমন্ত্রীই তৈরি করবে না, উত্তর প্রদেশে নতুন সরকারও গঠন করবে।’
এদিকে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর প্রদেশের এক র্যালি থেকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। র্যালিতে তিনি বলেন, “আপনার বাবাকে সভাসদরা ‘মি ক্লিন’ বলতেন, কিন্তু দুর্নীতিতে এক নম্বর হয়ে তার জীবনাবসান হয়।’ বোফোর্স কেলেঙ্কারির উদাহরণ টেনে মোদি সাবেক কংগ্রেস নেতা ও প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধী প্রসঙ্গে এমন কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেসের ‘নামদার’ নেতাদের পরিষ্কার করে শুনতে হবে, এই মোদি সোনার চামচ মুখে নিয়ে বা কোনো সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মায়নি।”
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পিছিয়ে নেই কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। গত শনিবার আমেথিতে প্রচারকালে বিজেপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশের আমেথির গ্রামপ্রধানদের বিশ হাজার রুপি করে দিয়েছে বিজেপি। এমন দাবি করে প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘এখানে টাকা-পয়সা বিলানো হয়েছে। কংগ্রেস জনগণের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বিলিয়েছে। কিন্তু বিজেপি তা করেনি, তারা গ্রামপ্রধানদের বিশ হাজার রুপি করে বিলিয়েছে।’
আমেথিতে বিজেপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তাকে আক্রমণ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘এই আসনে নাটক করছেন তিনি (ইরানি)। তিনি এখানে ১৬ বার এসেছেন। আর প্রতিবারই তার সঙ্গে নিয়ে এসেছেন মিডিয়াকে এবং জুতা বিলিয়েছেন। তিনি আপনাদের অপমান করেছেন। আমেথির জনগণ কী চায় তিনি তা বুঝতে পারেন না।’