ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টায় শিক্ষক বরখাস্ত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

রবিবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক আদেশ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান উপজেলার হেসাখাল ইউপির পদুয়ারপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

ওই ছাত্রীর পরিবার ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর পহেলা বৈশাখে শাড়ি পরে বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। ওইদিন শিক্ষক মিজানুর রহমান ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়।

এরপরও কয়েকবার ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাথরুমের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এসময় শিক্ষক মিজানুর রহমান তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতেন বলে গত ১ মে বুধবার রাতে ছাত্রী তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়।

এরপর  ২ মে বৃহস্পতিবার ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাউদ হোসেন চৌধুরীর নিকট মৌখিক অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ পেয়ে তিনি সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ হোসাইনকে বিষয়টি তদন্ত করে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী রবিবার অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকুরী হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এর আদেশপত্র পাঠান।

ওই ছাত্রীর পরিবারের একটি সূত্র জানায়, পহেলা বৈশাখের এ ঘটনার পর ঘটনাটি সহকারী শিক্ষক নাজমা আক্তারকে বিষয়টি জানায়। এ সময় শিক্ষক নাজমা এ ঘটনা অন্য কারো কাছে না জানানোর জন্য ওই ছাত্রীকে হুমকি ধমকি দিয়েছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আল আমিন বলেন, পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে এর সত্যতা পাওয়ায় সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছ। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও মামলার প্রক্রিয়া চালিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস।