উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে হয়রানি বন্ধে কমিটি

বিনিয়োগ বাড়াতে দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এসব কমিটি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করার সুপারিশের পাশাপাশি নারী, তরুণ ও বিশেষভাবে সক্ষম উদ্যোক্তারা যাতে হয়রানিমুক্তভাবে ঋণ পেতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। কোনো উদ্যোক্তা ঋণ নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কমিটি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ঋণের আবেদন করে যেসব উদ্যোক্তা ঋণ পাবেন না, তাদের ঋণ না পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে।

ব্যবসা-বিনিয়োগের খরচ কমানো ও পরিবেশ সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলমের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবকটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘বিনিয়োগ ও ব্যবসায় উন্নয়ন সহায়তা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিটিগুলোতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা কমিটিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী স্বাক্ষরিত কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোগটি হচ্ছে ‘বিনিয়োগ বিকাশ’। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি ফোরামের পূর্ণ সমর্থনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ দেশে বেসরকারি খাতে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, বিনিয়োগে সহায়তা দেওয়া ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে অন্যতম প্রধান সংগঠন হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিনিয়োগ প্রসারের এই কর্মযজ্ঞে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখা আবশ্যক। এ ছাড়া বিভাগ, জেলা ও উপজেলার ওয়েব পোর্টালে বিডার লিঙ্ক সংযুক্ত করে তা বিডা ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।

বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত ২৬ সদস্যের কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজ করতে বিদ্যমান নীতিমালা, আইন, বিধি ও পদ্ধতি সংস্কার এবং প্রয়োজনে নতুন নীতিমালা, আইন, বিধি ও পদ্ধতি প্রচলনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করবে। বিশিষ্ট উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষক, গবেষক ও সরকারের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ও বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভাগের বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা ও খাত চিহ্নিত করাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে।

বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনাগুলো প্রচার করে নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে বিভাগীয় কমিটি। এ ছাড়া নারী, তরুণ ও বিশেষভাবে সক্ষম সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ‘অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের’ যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করা, বিনিয়োগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের অনাকাক্সিক্ষত প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

বিভাগীয় কমিটির জন্য নির্ধারিত কর্মপরিধির পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২৮ সদস্যের জেলা কমিটি ও ২২ সদস্যের উপজেলা কমিটিকে। নারী, তরুণ ও বিশেষভাবে সক্ষম উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুবিধা সৃষ্টিতে কাজ করবে এ কমিটি। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী, তরুণ ও বিশেষভাবে সক্ষম উদ্যোক্তা হয়রানির শিকার হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

জেলা কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ‘নারী, তরুণ ও বিশেষভাবে সক্ষম উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। প্রতি মাসে কতজন উদ্যোক্তা ঋণ পেলেন সে তথ্য সংগ্রহ করবে। যারা ঋণের জন্য আবেদন করে ঋণ পাননি, তাদের ঋণ না পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কমিটি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ যাতে দেশে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে ব্যয় করা হয়, সে জন্য পরিবারগুলোকে উৎসাহ দেবে কমিটি।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (বিডা) কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশে সোয়া কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ জন্য সরকার ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন শুরু হয়েছে। বিডা বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন লাইসেন্স ও সেবা পাওয়ার সময়সীমা কমিয়ে আনছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও বেশ কিছু সেবা ফি কমিয়েছে। সরকার অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করলেও সে তুলনায় কাক্সিক্ষত মাত্রায় বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকারের সকল পর্যায় থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে এ তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।