দুই মন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে স্মার্ট সিটি তৈরিতে আগ্রহী ভারত

বাংলাদেশের শিক্ষা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অটোমেশন, ব্যাংকিং, জ্বালানি মজুদ খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ভারত। একই সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়াতে ব্যবসা ও ট্রাভেলে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি বিনিয়োগের এই আগ্রহের কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বহুবিধ সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিশ্বাস, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে বাংলাদেশ। তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণে ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ,  রেলপথ, সড়ক, জাহাজ চলাচল, বন্দরসহ অবকাঠামো খাতে ১৭টি অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারত চাইলে শিক্ষা খাতেও বিনিয়োগ করতে পারে। ভ্যাট ফাঁকি রোধে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে ইএফডি  কেনার প্রক্রিয়া এনবিআরে চলমান আছে। এ প্রক্রিয়াতেও ভারতকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি এনবিআরের অটোমেশন, ব্যাংকিং, জ্বালানি মজুদ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে পারে ভারত।

পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যাতায়াত বাড়াতে হবে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ব্যবসা ও ভ্রমণ বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রিভা গাঙ্গুলি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা; বিশেষ করে রেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে অবশ্যই যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে আরও  বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের এলএনজি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে আরও  বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ভারত।

তিনি ভারতের বিভিন্ন স্মার্ট সিটির আদলে বাংলাদেশে স্মার্ট সিটি তৈরিতে পরামর্শ দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহের কথা জানা। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে স্মার্ট সিটি  তৈরির সম্ভাবনা ও স্থান রয়েছে। ভারত আগ্রহী হলে  যেকোনো সময় স্মার্ট সিটি তৈরি করার জন্য প্রস্তুত আছি।’