পেনশনের আওতায় ব্যাংকের কর্মকর্তারা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

সরকারের সর্বজনীন পেনশনের আওতায় ‘প্রগতি স্কিম’-এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীরা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে পর্যালোচনা সভা করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক সভাপতিত্ব করেন। যেখানে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি এবং ব্যাংক খাতের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আয়েশা হক।

সভা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এবং ২৪টি ব্যাংক সক্রিয়ভাবে পেনশন স্কিমের চাঁদা গ্রহণ ও প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বর্তমান অগ্রগতি, প্রগতি স্কিমের বৈশিষ্ট্য এবং বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মীর বড় অংশই অবসর-পরবর্তী কোনো আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় নেই। সরকারি চাকরিজীবীরা সরকারি পেনশনের আওতায় থাকলেও বেসরকারি খাতে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এই শূন্যতা পূরণে ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অধীনে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি স্কিম’ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি সভায় উপস্থাপন করা হয়।

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বৃহৎ বেসরকারি খাতে নিয়োজিত কর্মকর্তাগণকে সুসংগঠিত অবসর সুবিধা দিতেই সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ‘বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন’ শীর্ষক অংশের ‘পেনশন ফান্ড গঠন’ বিষয়ে বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি পেনশন ফান্ড গঠনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে।

সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত ৩০ মে পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন নিবন্ধিত হছেন এবং মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৮৬ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি ও সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন সদস্যকে যেকোনো একটি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে, সেটা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো ভূমিকা রাখবে।

সভার সমাপনী বক্তব্যে নাজমা মোবারেক সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহক বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব কার্যক্রম সম্পাদন করার জন্য সমঝোতা স্মারক আলোকে সব শাখাতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আলাদা ডেস্ক স্থাপন ও ব্যানার প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা,  সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়টিকে ব্যাংকের নিজস্ব প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যাংকের মার্কেটিংয়ে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সম্পৃক্ত করা এবং বেসরকারি ব্যাংকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বজনীন পেনশন প্রগতি স্কিমের আওতাভুক্ত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত