গুঁড়োদুধে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব খামারিদের

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজটে নিম্নমানের ভর্তুকিপ্রাপ্ত গুঁড়োদুধের ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং ট্যাক্স আরোপ ও আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়াও বিগত ১৫ বছরে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে খামারিদের তরল দুধের ন্যায্য দাম সরকার থেকে নিশ্চিতকরণ ও সঠিক বাজারজাত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাসহ ১১টি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ইমরান হোসেন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহ এমরান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিল্কভিটার এজিএম মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় ডেইরি উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি উম্মে কুলসুম সিনথি, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন সহ-সভাপতি আলী আজম রহমান শিবলী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজিব উল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দুগ্ধ খামার ব্যবসা বাংলাদেশে কৃষি ব্যবসার অনেকগুলো ব্যবসার মধ্যে অন্যতম। দেশে মোট জিডিপির ১৯ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। বিগত ৭ বছরে দেশে দুগ্ধ খামারের সংখ্যা (রেজিস্টার্ড এবং আন-রেজিস্টার্ড) বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১২ লক্ষ, দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সালে হয়েছে ৯৪ লক্ষ মেট্রিক টন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে দুগ্ধ খামার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৯৪ লাখ মানুষ।

বক্তারা বলেন, পর্যায়ক্রমে গুঁড়োদুধের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হোক কারণ মোট চাহিদার ৭০% দুধ দেশই এখন উৎপাদন করে। বিগত ৭ বছরে মানুষের খাদ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গরুর দুধের প্রতি চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে। যার ফলে দুধের উৎপাদন বিগত ৭ বছরে বেড়েছে ৩ গুণ এবং   দেশে দুধের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ দুধ আমরা নিজেরাই উৎপাদন করছি। এমতাবস্থায় আমদানি শুল্ক পর্যায়ক্রমে কিছুটা বাড়িয়ে দেশীয় দুগ্ধশিল্পকে প্রণোদনা ও সরকারি সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই একমাত্র সহায়ক।

২০১০-১১ সালে দেশে দুধের চাহিদা ছিল ১৩ লক্ষ মেট্রিক টন। তখন দেশে দুগ্ধ খামারিরা দুধ উৎপাদন করত ২.৯৫ লক্ষ মেট্রিক টন। ২০১৭-১৮ সারে দেশে দুধের চাহিদা হয়েছে ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন, এখন  দেশের দুগ্ধ খামারিরা দুধ উৎপাদন করছে ৯.৪ লক্ষ মেট্রিক টন। ঘাটতি আছে মাত্র ৫.৬০ লক্ষ মেট্রিক টন। এখন থেকেই পর্যায়ক্রমে গুঁড়োদুধের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় শিল্পকে প্রণোদনা দিতে হবে, এটাই একমাত্র পথ, নাহলে দেশের দুগ্ধশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। 

এছাড়াও ভর্তুকিপ্রাপ্ত দেশের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা যা বাংলাদেশের দুগ্ধশিল্প ধ্বংস হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশের উদীয়মান এই শিল্পকে ধ্বংসের জন্য একটি মহল সর্বদা গুঁড়োদুধ আমদানির পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভর্তুকিপ্রাপ্ত দুধ বাংলাদেশের কৃষককে অসম প্রতিযোগিতায় ফেলে বিপদগ্রস্ত ও ক্ষতির সম্মুখীন করছে।