এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি পরীক্ষায় যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদের ধৈর্যহারা না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার ফল প্রকাশ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতি বছর ফল ঘোষণার দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। কিন্তু এ বছর প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় শিক্ষামন্ত্রীর হাতে ফলাফল তুলে দেন তারা। গতকাল বেলা ১১টায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন।
পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী ফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী ফোন করে পাস করা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও অকৃতকার্যদের ধৈর্য ধরে মনোযোগ সহকারে পুনরায় প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এ বছর গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ (গতকাল) ২০১৯ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকমণ্ডলীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। একাগ্রতা, অধ্যবসায় এবং পরিশ্রম যেকোনো অসাধ্যকে সাধন করতে সহায়তা করতে পারে। তোমরা যারা যেকোনো কারণেই হোক উত্তীর্ণ হতে পারনি, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এখন থেকে চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই তোমরা এ বাধা অতিক্রম করে ভালো ফল অর্জন করতে পারবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতি বছর আমি সশরীরে উপস্থিত থেকে এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করি এবং তোমাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। এ বছর আমি লন্ডনে সফরে থাকার কারণে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলাম। এজন্য আমি তোমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, তোমরা তোমাদের মেধা-মননের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে এবং আগামীতে দেশ পরিচালনার জন্য নিজেদের যোগ্য করে প্রস্তুত করবেÑ এই প্রত্যাশা করছি।’