বিচারপতিদের প্রতি গয়েশ্বর

প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে ডাকুন

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথিত একটি ফোনালাপের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে ডাকতে বিচার বিভাগ ও বিচারপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সব রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম’।

গয়েশ্বর বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে গিয়ে বলেছেন ‘এই তারেককে বাড়াবাড়ি করতে মানা করবে, না হলে ওর মাকে আজীবনের জন্য জেলে রাখব।’ তার মানে আইন ও আদালতের কারণে নয়, শেখ হাসিনার ইচ্ছায় খালেদা জিয়াকে সারা জীবন কারাগারে থাকতে হবে।”

তিনি বলেন, ‘এখন জনগণ যদি বলে আদালতের হাত-পা বাঁধা এবং সরকারের কথার বাইরে আদালত যেতে পারে না। তাহলে কাল আমাকে ডেকে বলবে, আপনি আদালত অবমাননা করেছেন। তবে আমি বিচারপতিদের প্রতি নিবেদন করব, একজন কারাবন্দিকে আজীবন কারাগারে থাকতে হবে, এমন হুমকি যখন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে দেন তাকে কি একটু আদালতে এনে জিজ্ঞাস করতে পারেন, এই সিদ্ধান্ত দেওয়ার আপনি কে?’

আদালতের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, পারবেন না। বরং আগামীকাল আমাকে ডাকতে পারেন। ডেকে বলবেন, আপনি আবার প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এগুলো বলতে গেলেন কেন? এই কারণে মাননীয় আদালতের কাছে অনুরোধ করব, উনাকে ডাকেন। এই ডাকাটা মনে হয় জাতির জন্য জরুরি। উনাকে ডেকে জিজ্ঞেস করুন, আমার কাজটা যদি আপনি করেন তাহলে এই চেয়ারে আমার থাকার দরকার কী?’

বিএনপির এমপিদের শপথের বিষয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘এখন আমাদেরকে দেখতে হবে আমাদের এমপিরা সংসদে কতটুকু এক্সারসাইজ করতে পারেন এবং কতটুকু তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য সরকার পক্ষ কতটুকু সহ্য করতে পারে এবং তাদের কথা বলার অধিকার কতটুকু প্রসারিত করতে পারেন, এটা দেখার ব্যাপার। এখন আমি চলে গেছি, এটা নিয়ে ভুল ও শুদ্ধের বিষয়ে কথা বলার কারণ নেই। আর সময়ই বলে দেবে এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, না ছিল না।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।