অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় নারীকর্মীকে চাকরিচ্যুত করল অ্যামাজন

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ৭ নারীকে চাকরিচ্যুত করেছে জায়ান্ট অনলাইন রিটেইল শপ অ্যামাজন। গত আট বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া ওঠে।

প্রযুক্তি বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম সিনেট জানায়, গত আট বছরে এ সাত অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চাকরিচ্যুত করে অ্যামাজন।

ভুক্তভোগী নারীদের একজন বেভারলি রোজলস অ্যামাজনের টোট অডিটর হিসাবে কাজ করতেন। শিফট অনু্যায়ী ১০ ঘণ্টা করে তাকে কাজ করতে হয়। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় পুরো কর্মঘণ্টা শেষ করতে পারতেন না। শরীর দুর্বল থাকায় বিশ্রাম নেওয়া বা একাধিকবার বাথরুমে যাওয়ার কারণে কাজের গতিও কমে যায় তার।

তিনি জানান, গর্ভবতী হওয়ার একমাস পর গত বছরের নভেম্বরে তাকে চাকরিচ্যুত করে অ্যামাজন। একই সঙ্গে বাতিল করে দেয় ক্যালিফোর্নিয়াতে তার আবাসন সুবিধাও।

রোজেলস বলেন, “অ্যামাজন যত বেশি সম্ভব পণ্য বিক্রি করতে চায়। পণ্য চালানোর দিকেই তাদের অধিক মনোযোগ। তাদের আসলে এমন কর্মীই বেশি দরকার, যাদের আবাসন সুবিধা দেওয়ার দরকার পড়বে না। তারা আসলে কর্মীদের থেকে সংখ্যাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।”

তিনি ছাড়া আরও ছয়জন নারীর সঙ্গে একই আচরণ করেছে অ্যামাজন। এসব নারীরা প্রতিষ্ঠানটির অল্প আয়ের কর্মজীবী।  তারা সবাই ওয়্যারহাউস প্রতি ঘণ্টায় তাদের বেতন মাত্র ১৫ ডলার। সবারই অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে তাদের চাকরিচ্যুত করেছে অনলাইন রিটেইল শপটি।

তবে এসব অভিযোগের ছয়টিই আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। রোজেসের মামলাটি এখনো সুরাহা হয়নি, আদালতে প্রক্রিয়াধীন আছে।  

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস মার্কিন বাজারে নিজের প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য ধরে রাখতে কঠোর নীতি গ্রহণ করায় এ ধরনের ঘটনার জন্ম দিয়েছে বলে অনেকের ধারণা।

এদিকে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউস কর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। অ্যামাজন নিম্নস্তরের কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম করায় এবং তাদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিয়ন সংগঠকেরা।