‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঢাকা মুন্সীগঞ্জ রংপুরে নিহত ৩

রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত ও মুন্সীগঞ্জ সদরে গত সোমবার রাতে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি, তারা মাদক কারবারি ছিলেন। এ ছাড়া রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তি তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং

ধর্ষণসহ ১৪টি মামলার আসামি ছিলেন। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরেÑ

খিলক্ষেতের ঘটনা সম্পর্কে র‌্যাব-১-এর পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডুমনী ৩০০ ফুট সড়কে মাদক কারবারিরা অবস্থান করছেÑ এ সংবাদ পেয়ে সোমবার রাত ১টার দিকে র‌্যাবের টহল দল সেখানে গেলে গুলি ছোড়ে তারা। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ মিজানুর রহমান জুয়েলকে (৩৮) কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিহ্নিত মাদক কারবারি জুয়েলের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১৩-১৪টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, বিদেশি পিস্তল ও গুলি। 

খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিনুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ : র‌্যাব-১১-এর সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, গত সোমবার রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার রামশিং এলাকায় মাদক কারবারি মো. সুজন মিয়া ওরফে টেঙ্গর সুজনকে (৩৬) গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান চালানো হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সুজন ও তার সঙ্গীরা গুলি ছোড়ে। র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে টেঙ্গর সুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আহত র‌্যাব সদস্য মহসিনকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা বড়ি, একটি পিস্তল, পাঁচটি পিস্তলের গুলি এবং নগদ দেড় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি সুজন উপজেলার রিকাবীবাজার বাঁশতলা এলাকার মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুজনের বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলার মধ্যে তিনটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

রংপুর : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) এ সাইফুর রহমান জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ধর্ষণ মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম সুমনকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার রাতে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের চড় ইছলী এলাকায় যায় পুলিশ। এ সময় সেখানে ওঁত পেতে থাকা তার সহযোগীরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই সুমন নিহত হয়। আহত পুলিশের পাঁচ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও ২২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। 

তিনি জানান, সুমন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার রুদ্রেশ্বর গ্রামের মহেশার আলীর ছেলে। তার নামে থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।