নাটোরের ছাতনী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র রাকিব হোসেন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। রাকিবের স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা নিয়ে সে প্রকৌশলী হবে। কিন্তু তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য। বহু কষ্টে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার গণ্ডি পেরোতে পারলেও এবার কলেজে ভর্তি হতে পারবে কি না, সেই দুশ্চিন্তা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
রাকিব হোসেন জানায়, অর্থের অভাবে সে কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। পঙ্গু বাবার অভাবী সংসারের হাল ধরতে গিয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তার বড় ভাই সাব্বিরকে লেখাপড়া ছেড়ে কাজ খুঁজে নিতে হয়েছে। বন্ধ হয়ে যায় সাব্বিরের লেখাপড়া। ওই ভাইয়ের উপার্জিত মাসে পাঁচ হাজার টাকায় চলে তাদের সংসার। বাবার চিকিৎসা খরচও বহন করতে হয় তার ভাইকে। এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় পরিবারের সবাই খুশি। এখন কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একটি দুর্ঘটনায় বাবা আনছার আলী পঙ্গু হয়ে যান। সংসারের হাল ধরতে গিয়ে মা আজেদা বেগমকে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হয়। সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের আনছার আলী ও আজেদা বেগম ছেলে রাকিবের ভালো ফলে মহাখুশি। কিন্তু তাকে কলেজে ভর্তি করার সামর্থ্য তাদের নেই। বড় ছেলের লেখাপড়াও বন্ধ হয়েছে টাকার অভাবে। ছেলে রাকিবের স্বপ্ন পূরণের জন্য বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন তারা।
ছাতনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণচন্দ্র প্রামাণিক বলেন, স্কুলের মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে রাকিব অন্যতম। সুযোগ পেলে সে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশের সুনাম অর্জন করবে। তিনি রাকিবের সহায়তায় হৃদয়বানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।