শিশু অধিকার নিশ্চিত করুন

আজকের শিশু আগামী দিনের আশার আলো। শিশুরা বেড়ে ওঠার সময় অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। সব শিশু পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র থেকে সমান সুযোগ-সুবিধা পায় না। পরিবার থেকে অশিক্ষা, দারিদ্র্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিশু তাদের অধিকার ভোগ করা তো দূরের কথা, তারা জানেই না তাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে কী কী অধিকার তাদের প্রাপ্য। জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে শিশু অধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে অনুস্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। বাস্তবতা হলো শিশুর অধিকার ও তাদের কল্যাণের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আইন থাকার পরও তারা শুধু অধিকার থেকে বঞ্চিত নয়, নানা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে অপরাধের ক্ষেত্রে, ন্যায়বিচার, গ্রেপ্তার ও দণ্ড থেকে সুরক্ষা, দত্তক গ্রহণ ও প্রদান, পাচার থেকে সুরক্ষা, পরিবারবঞ্চিত শিশুর ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন, মর্যাদা ও সুনাম, মানবিক আচরণ, শিক্ষালাভ, শোষণ থেকে রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবসর ও বিনোদন, চিকিৎসা, পরিচর্যা, পারিবারিক সংহতি, প্রতিবন্ধী শিশুর অধিকার এমন বিষয় রয়েছে। কিন্তু এসব অধিকার থেকে বেশিরভাগ শিশুই বঞ্চিত। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম, বাল্যবিবাহ, উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবার অভাব, অপুষ্টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, সহিংসতা ও নির্যাতন এসব সমস্যা আছেই। শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।  সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রত্যেক মানুষকে শিশু অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

স্বপ্না বিশ্বাস, কচুয়া, বাগেরহাট