বাজারে বিক্রি হওয়া গরুর খোলা তরল দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯৩টিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে। আর প্যাকেটজাত তরল দুধের ৩১টি নমুনার মধ্যে ১৮টিতে পাওয়া গেছে ক্ষতিকর রাসায়নিক। গতকাল বুধবার হাইকোর্টে নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কোন কোন কোম্পানির দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে কিংবা কারা দুধে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশায়, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ ছিল না। এ কারণে আগামী ১৫ মের মধ্যে তালিকা দাখিল করতে নির্দেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালতে শুনানি করা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিনউদ্দিন মানিক জানান, কোন কোন কোম্পানি ও কারা দুধে রাসায়নিক দ্রব্য মেশায়, প্রতিবেদনে তাদের নাম-ঠিকানা না দেওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম শুনানি করেন।
সংবাদপত্রে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের এই বেঞ্চ এক আদেশে সারা দেশে গাভীর খোলা দুধ, প্যাকেটজাত তরল দুধ, দই ও পশুখাদ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক, সিসা নিরূপণে কমিটি গঠনের মাধ্যমে জরিপ পরিচালনার নির্দেশ ও রুল দেয়। আদেশের ১৫ দিনের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি ও মান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইকে জরিপের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি গতকাল শুনানির জন্য আদালতে ওঠে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গরুর খোলা দুধের সংগৃহীত ৯৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৯৩ শতাংশে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর অণুজীব পাওয়া গেছে। অণুজৈবিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৯৩টি নমুনাতে টিপিসি ও কলিফরম ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান। একটি নমুনায় সালমোনেলা পাওয়া গেছে। আর মানবদেহের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা মিলেছে ১৫ শতাংশ দুধে। ১৩ শতাংশ দুধে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি টেট্রাসাইক্লিন, ৯ শতাংশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার বেশি কীটনাশক এবং ৩ শতাংশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি (দেশি ২১টি, আমদানিকৃত ১০টি) নমুনার মধ্যে ৬৬-৮০ শতাংশে বিভিন্ন অণুজীব, ৩০ শতাংশে মানুষের শরীরের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি টেট্রাসাইক্লিন, একটি নমুনায় ক্ষতিকর মাত্রার সিসা এবং বেশ কয়েকটিতে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ও এনরোফ্লোক্সাসিন পাওয়া গেছে। ১৭টি দেশি দুধের নমুনাতে টিপিসি ও কলিফরম, ১৪টিতে মোল্ডস এবং আমদানি করা তরল দুধের একটি নমুনাতে কলিফরম ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া গেছে।
রাসায়নিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশি দুধের একটি নমুনাতে আফলাটক্সিন, ছয়টিতে টেট্রাসাইক্লিন ও আমদানিকৃত দুধের তিনটিতে টেট্রাসাইক্লিন রয়েছে ক্ষতিকর মাত্রায়। সংগৃহীত দইয়ের ৩৩টি নমুনার ১৭টিতে টিপিসি, ৬টিতে কলিফরম, ১৭টিতে ইস্ট/মোল্ড এবং একটিতে ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। আর পশু খাদ্যের ৩০টির মধ্যে ১৬টিতে ক্রোমিয়াম, ৪টিতে আফলাটক্সিন, ২২টিতে টেট্রাসাইক্লিন, ২৬টিতে এনরোফ্লক্সাসিন, ৩০টিতে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ও দুটিতে পেস্টিসাইট (এন্ডসালফান) ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান।