১৬৪ ধারায় জবানবন্দি

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় পাহারায় ছিল শাকিল

মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় ভবনটির সিঁড়িতে পাহারার দায়িত্বে ছিল তার সহপাঠী মহিউদ্দিন শাকিল। এ সময় সেখানে অপর আলিম পরীক্ষার্থী মো. শামীমও তার সঙ্গে ছিল। আগুন দেওয়ার পর বোরকা পরা তিনজন দ্রুত নিচে নেমে গেলে শাকিল ও শামীম পরীক্ষার হলে চলে যায়।

গত মঙ্গলবার রাতে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসেনের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে শাকিল। এদিকে এই হত্যা মামলার অন্যতম তিন আসামির আরও এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বুধবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসেন তাদের রিমান্ডে নেওয়ার এই আদেশ দেন।

শাকিলের জবানবন্দি শেষে পিবিআই চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ সুপার মো. ইকবাল বলেন, ‘সাইক্লোন শেল্টারের তৃতীয় তলার ছাদে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার সময় শাকিল সাইক্লোন শেল্টারের গেইটে পাহারারত ছিল। এ সময় সেখানে অপর আলিম পরীক্ষার্থী মো. শামীমও তার সঙ্গে ছিল। ওই দিন আলিম পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাকিল ও শামীম সাইক্লোন শেল্টারের নিচে ছিল। এ সময় নুসরাতকে অপর এক ছাত্রী ডেকে সাইক্লোন শেল্টারের উপরে নিয়ে যায়। আগুন দেওয়ার পর বোরকা পরা তিনজন দ্রুত নিচে নেমে গেলে শাকিল ও শামীম পরীক্ষার হলে চলে যায়।’

এর আগে গত ২ মে শাকিলকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। বিচারক সেদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিন আসামি ফের এক দিনের রিমান্ডে : নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওসি শাহ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নুসরাত হত্যার কিছু আলামত উদ্ধার এবং শনাক্তকরণের জন্য মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন ও জোবায়ের আহমেদকে আদালতে তুলে দুদিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে আদালত তাদের প্রত্যেককে এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।’

গতকাল রিমান্ডে নেওয়া তিনজনই এরমধ্যে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যায় নুসরাত।