ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুপারিশ

ছয় বছরেও ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে ট্রাইব্যুনালটি গঠনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এজন্য অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এবং ভূমি সচিবের উপস্থিতিতে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়ে আলোচনা করার তাগিদ দিয়েছে কমিটি। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভূমি জরিপের চূড়ান্ত প্রকাশনা ও গেজেট বিজ্ঞপ্তির পর ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৫এ (২) ধারায় গঠিত ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা করা যায়। গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যায়। মামলা দাখিলের সময় এক বছর। এ ছাড়া উপযুক্ত কারণ দর্শানো সাপেক্ষে অতিরিক্ত এক বছর সময় পাওয়া যায়। ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে রায়ের বিপরীতে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যায়। ঢাকা সিটি জরিপের ১৯১টি মৌজার নকশা ও রেকর্ড সংশোধনের জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। তবে জরিপের জন্য অদ্যাবধি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়নি। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করা যাবে।

এ ছাড়া বৈঠকে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ভূমি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি ডিজিটাইজেশনের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনদুর্ভোগ লাঘবে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, জনদুর্ভোগের জন্য কারা জড়িত এবং কীভাবে তাদের হাত থেকে জনগণকে সহায়তা প্রদান করা যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে ভূমি রেজিস্ট্রেশনের ফি নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রেজিস্ট্রেশন ফি কীভাবে নির্ধারণ করা হয় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

সাবেক আইনমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য সাহারা খাতুন, শামসুল হক টুকু, আব্দুল মজিদ খান, শেখ ফজলে নূর তাপস, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার ও আবদুস সাত্তার ভূঞা অংশ নেন।