দুই দশকের বেশি সময় আগের একটি হত্যা মামলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে না এলে তাদের বেতন আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
১৯৯৮ সালের মার্চে রাজধানীর ডেমরার একটি হত্যা মামলার এক আসামির জামিন শুনানিকালে গত ২৯ এপ্রিল মামলাটি অনিষ্পন্ন থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ঢাকা মহানগর পঞ্চম অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারককে তলব করে হাইকোর্ট। গতকাল ওই বিচারক হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে জানান, সমন জারির পরও সাক্ষী না আসায় মামালাটি নিষ্পন্ন হচ্ছে না। সরকারি সাক্ষী যেমন চিকিৎসক, পুলিশও সাক্ষ্য দিতে আসছেন না। এমন বক্তব্য শুনে হাইকোর্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাক্ষীদের বেতন আটকে রাখার নির্দেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, এ মামলায় ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা, সুরতহাল প্রতিবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা সমন জারির পরও সাক্ষ্য দিতে আসছেন না। এমন পরিস্থিতিতে আদালত বলেছে, অন্তত সরকারি সাক্ষীরা তো সাক্ষ্য দিতে আসতে পারেন।
তিনি জানান, সাক্ষীরা না এলে তাদের বেতন আটকে রাখার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি যেসব সাক্ষী সরকারি দায়িত্বসহ বিভিন্ন কাজে দেশের বাইরে রয়েছেন তাদের ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে বিষয়টিও ভেবে দেখতে বলেছে আদালত। এদিকে এই মামলায় জামিন চাওয়া আসামি হেমায়েতকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী জানান, ১৯৯৮ সালের ১৬ মার্চ ডেমরার কলিমউল্লাহরবাগ এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন হযরত আলী ও মাসুদ হোসেন ব্রিটেন। পরে হাসপাতালে মারা যান হযরত আলী। দুই হাত কনুই থেকে কেটে ফেলায় পঙ্গু হয়ে যান মাসুদ। মামলার পর তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ১১ মে ১০ জনকে আসামি করে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর নির্দেশ দিলেও এখনো এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।