রাজধানীর নামি প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ পুরনো। সম্প্রতি তার প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ভিকারুননিসায় প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত নির্দিষ্ট আসনের অতিরিক্ত ৪২৫ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত ভর্তি করা হয় বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। ভর্তি হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্র্তৃপক্ষ বছরের প্রথম দিন থেকে শুরু করে শেষ দিন পর্যন্ত দুর্নীতি করে। ভর্তিবাণিজ্য, হঠাৎ বেতন বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের দুর্নীতি করে তারা। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নিয়োগেও ২০ লাখের ওপর অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ, সবচেয়ে দুর্নীতি হয় প্রথম শ্রেণির লটারিতে। লটারির মাধ্যমে যা নেওয়ার কথা, তা তো নেই-ই; পরে গোপনে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আরও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করায়।
মাউশির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট অতিরিক্ত ভর্তি হয় ২১৩ জন। চলতি বছর (২০১৯) প্রতিটি শ্রেণিতেই অতিরিক্ত ভর্তি করা হয়েছে। এবার প্রথম শ্রেণিতে সর্বাধিক ১৬০ শিক্ষার্থী অতিরিক্ত ভর্তি হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫৬, তৃতীয় শ্রেণিতে ৯৪, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩৯, পঞ্চম শ্রেণিতে ৩১, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১১, সপ্তম শ্রেণিতে ২৫, অষ্টম শ্রেণিতে দুই এবং নবম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখায় সাতজনসহ মোট ৪২৫ জনকে অতিরিক্ত ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির (মাধ্যমিক) পরিচালক অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘গত বছর স্কুলটি অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটিতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ভর্তি থেকে বিরত থাকার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় যে নির্দেশনা দেবে, আমরা তা বাস্তবায়ন করব।’
অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ভিকারুননিসার গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতিরিক্ত ভর্তির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে তদন্তে যেহেতু বিষয়টি এসেছে, আমরা এটা দেখব। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে মাস দেড়েক আগে দায়িত্ব পাওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমি নতুন, এ বিষয়ে আমার জানার কথা নয়।’
ভিকারুননিসার তিন বছরের পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট সম্প্রতি মাউশিতে জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বিশ্বাসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করে।