পাকিস্তান ছেড়ে নিরাপদে পালালেন আসিয়া বিবি

ব্ল্যাসফেমির (ধর্ম অবমাননা) অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে পাকিস্তানের খ্রিস্টান নাগরিক আসিয়া বিবি নিরাপদে কানাডায় পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

আসিয়া বিবিসির আইনজীবী সাইফ আল মুলুক আসিয়া বিবিরি কানাডায় পৌঁছানোর সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সংবাদ প্রকাশ করে বিবৃতিতে জানায়, ‘আসিয়া বিবি দেশ ছেড়েছেন। তিনি একজন স্বাধীন মানুষ এবং তার নিজস্ব ইচ্ছাতেই তিনি চলে গেছেন।’ তবে তিনি কোথায় যাচ্ছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্র্তৃপক্ষ এখনো তার ওপর নজরদারি করছে এবং নিরাপত্তার খাতিরে তার অবস্থান সম্পর্কে সচেতন রয়েছে।

এর আগে গত মাসে কানাডা পৌঁছেছেন তার মেয়েরা। এ ছাড়া আসিয়াকে সহায়তা করে মৃত্যুর হুমকি পেয়ে শুক্রবার পাকিস্তান ছেড়েছেন তার বন্ধু আমান উল্লাহ। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে আসিয়ার যোগাযোগে মধ্যস্থতাকারী ছিলেন তিনি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে পাকিস্তানে ব্ল্যাসফেমি আইনকে ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ধর্ম অবমাননার অভিযোগগুলো উঠলেই এমন আবেগ দেখা যায় যে, কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করে অভিযোগ ভুল প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, পাকিস্তানে ব্ল্যাসফেমি আইন ধর্ম অবমাননার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

২০০৯ সালে খামারে কাজ করার সময় মুসলিম সহকর্মীদের গ্লাসে পানি খাওয়া নিয়ে ঝগড়ার জেরে আসিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। বরাবরই আসিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও ২০১০ সালে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনে দেশটির প্রথম নারী হিসেবে আসিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনার পর গত বছরের ৩১ অক্টোবর আসিয়া বিবিকে খালাস দেয় উচ্চ আদালত।