লিচু পাড়তে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে মার খেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের দুই নেতা। গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের পেছনের বাগানে লিচু পাড়তে গেলে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে বাগানের প্রহরী স্থানীয় যুবকরা তাদের মারধর করেন। এতে রাবি ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কাননের দুই হাত ভেঙে যায় এবং উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদি হাসানের পায়ে গুরুতর জখম হয়। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় ছাত্রলীগের আইন অনুষদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত পাঁচজনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রাতেই মতিহার থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। গতকাল বুধবার সকালে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রোকেয়া হলের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইজারা দেওয়া গোদাগাড়ী বাগানে ছাত্রলীগ নেতা কানন ও মেহেদিসহ বেশ কয়েকজন মিলে লিচু পাড়তে যান। এ সময় বাগানের প্রহরীরা বাধা দেন। তারা তখন নিজেদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হলে প্রহরীরা লাঠি-বাঁশ দিয়ে সবাইকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের অন্য নেতাকর্মীরা রড, স্ট্যাম্প ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত হন। এতে মারধরকারীরা পালিয়ে যান। কাউকে না পেয়ে প্রহরীদের থাকার মাচাঘরে আগুন দেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমাদের দুজনকে মারধর করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছি।’ মতিহার থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় আশীষ (২৪) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
প্রক্টর মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে বলে শুনেছি। পুলিশ এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’