চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে আভাস বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দিয়েছে তার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোর তথ্য-উপাত্ত মেলে না। এই অবস্থায় সেগুলো পুনঃপর্যালোচনা করা উচিত বলে মনে করছে সানেম।
গতকাল বৃহস্পতিবার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত ‘কোয়ার্টারলি রিভিউ অব বাংলাদেশ ইকোনমি’
শীর্ষক অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে সরকারের প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে পর্যালোচনার সময় এ দাবি ওঠে।
এ সময় সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বিদেশি বিনিয়োগ। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে এখন রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বিদেশি বিনিয়োগের চেয়েও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি কম আয়ের দেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি দিয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হতে পারে না।
তিনি বলেন, একাডেমিক ও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আমরা এই প্রবৃদ্ধিকে ব্যাখ্যা করতে হিমশিম খাচ্ছি।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য কেন পুনঃপর্যালোচনার প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পাঁচটি উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুসারে প্রথম উদ্বেগটি হচ্ছেÑ রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কমার পরেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার উচ্চ প্রবৃদ্ধি। দ্বিতীয় উদ্বেগটি হচ্ছেÑ চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাবে শিল্প উৎপাদনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি। তৃতীয় উদ্বেগটি হচ্ছেÑ দুর্বল বাণিজ্যিক পরিবেশের মধ্যেও উচ্চ শিল্প উৎপাদনে এত বেশি প্রবৃদ্ধি। চতুর্থ উদ্বেগটি হচ্ছে কম বিনিয়োগ দিয়ে শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়া। পঞ্চম উদ্বেগটি হচ্ছেÑ প্রবৃদ্ধির মান। বেশি প্রবৃদ্ধি দিয়েও দারিদ্র্য কমার প্রবণতা কম।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক বাংলাদেশে জিডিপির বিপরীতে কর আদায় হার অন্য দেশগুলোর তুলনায় খুব কম উল্লেখ করে এ খাতের উন্নয়নের পরামর্শ দেন।
সে সময় সানেম চেয়ারম্যান অধ্যাপক বজলুল হক খন্দকার বলেন, আমাদের রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য নতুন খাত বের করতে হবে। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের সুপারিশ করেন তিনি।