মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা শ্রমবাজারে স্থানীয়দের চেয়েও এগিয়ে আছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ওই সেমিনারে চার সেশনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিআইডিএস ও ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিআইডিএসের মহাপরিচালক কে এ এস মুর্শিদের সভাপতিত্বে সারা দিনের বিভিন্ন অধিবেশনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রিচার্ড রাগান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইফপ্রির গবেষক ড. পাওয়েল দোরোস, বিআইডিএসের গবেষক ড. বিনায়ক সেন, ড. মোহাম্মদ ইউনুস, ড. মোহাম্মদ মঈনুল হক প্রমুখ।
ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, রোহিঙ্গারা এখন নগদ টাকার জন্য স্থানীয়ভাবে কাজ করে। শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্তির হারে স্থানীয়দের চেয়ে তারা এগিয়ে। রোহিঙ্গাদের ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশই শ্রমবাজারে যুক্ত। স্থানীয়দের মধ্যে এর হার ৫১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বিআইডিএসের আরেক গবেষক ড. মোহাম্মদ মঈনুল হকের উপস্থাপন করা অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয়দের ৯০ শতাংশের কোনো-না-কোনো আয়ের উৎস আছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আয়ের উৎস আছে ৭৫ দশমিক ৭০ শতাংশের।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘১২ লাখ রোহিঙ্গা এ দেশে আশ্রয় নেওয়ায় আমাদের বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু সেটি আমরা মেনে নিয়েছি।’