এবার সংসদে যোগদান প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দুই শরিকের (বিএনপি ও গণফোরাম) বিপরীত অবস্থান নিয়ে তৈরি সংকট আগামী এক মাসের মধ্যে সমাধান না হলে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে দলের বর্ধিতসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। এদিকে ২০ দলীয় জোটে আলোচনা না করেই বিএনপি সংসদে যাওয়ায় দুদিন আগে ওই জোট ছেড়ে গেছে আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বরের
নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়নি। বিশেষ করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পর কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই ফ্রন্টের সাতজন সদস্য শপথ নিলেন। ঐক্যফ্রন্ট পরিচালনায় কেন এই দুর্বলতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া যাচ্ছে না, এসব বিষয় মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আগামী এক মাসের মধ্যে যে যে অসংগতি সৃষ্টি হয়েছে তা সঠিকভাবে নিরসন না হলে ৮ জুন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে।’
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। এরপর ৫ নভেম্বর এ জোটে যোগ দেয় কাদের সিদ্দিকীর দল। বিএনপিপ্রধান এ জোটে আরও রয়েছে জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।
ফ্রন্টের টিকিটে নির্বাচিত বিএনপি ও গণফোরামের সাতজন সংসদে যোগ দেওয়ায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগপ্রধান। তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে জঘন্য নাটক হয়েছে, যা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর কোনো দেশেই এমন নাটকের নজির নেই। নির্বাচন-পরবর্তী ঐক্যফ্রন্ট থেকে বলা হয়েছিল, নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের কথা। সেটা ছিল যথার্থ, রাজনৈতিক স্বার্থে। তবে এ সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে যারা শপথ নিয়েছেন তারা ভবিষ্যতে মীর জাফরের চাইতেও বেশি নিন্দিত হিসেবে বিবেচিত হবেন।’
ফ্রন্ট ছাড়ার বিষয়ে শরিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি নাÑ এ প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী জানান, ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে তার অসংগতির বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ফ্রন্ট সঠিকভাবে চলতে পারেনি, চলেনি। নির্বাচনী সহিংসতার শিকার যারা হয়েছেন তাদের পাশে ঐক্যফ্রন্ট সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে গত ৩০ এপ্রিল শাহবাগে ঐক্যফ্রন্ট গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও, তা-ও বাতিল করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সহসভাপতি নাসরিন সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার প্রমুখ।