দাবদাহে পুড়ছে দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা ও যশোর। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ২৯ এপ্রিল রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি রেকর্ডের পর ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে তাপমাত্রা কমলেও গত দুদিন ধরে ফের সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ঠেকেছে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে। চুয়াডাঙ্গা ও যশোরেও তাপমাত্রা প্রায় ৩৯ ডিগ্রি। আবহাওয়া
অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকার কিছু এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি এই তাপপ্রবাহ আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন গতকাল শুক্রবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমবে।’ এর আগে গত বৃহস্পতিবার আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, তাপপ্রবাহ ১২ মে (রবিবার) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপপ্রবাহের মাত্রা ও এলাকা কমতে পারে। তবে ১৫-১৬ তারিখের পর থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে।
আগের দিনের চেয়ে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গতকাল রাজধানীতেও মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের কয়েকটি জায়গা দাবদাহে পুড়লেও স্বস্তিতে আছে সিলেট ও ময়মনসিংহের বাসিন্দারা। অন্যান্য এলাকার তুলনায় তাপমাত্রা অনেকটাই কম সেখানে। গত দুই দিন সেখানে বৃষ্টিও হয়েছে।
কয়েক দিন ধরে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ এবং ঢাকার কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ থাকলেও গতকাল তার আওতা বেড়েছে। এদিন নোয়াখালী ও দিনাজপুর অঞ্চলেও মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসে দু-একটি মৃদু ও মাঝারি তাপপ্রবাহের পাশাপাশি দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহও বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে হলে মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে হলে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।
মে মাসের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে কোনো নি¤œচাপের সৃষ্টি হয়নি বলে গতকাল দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন।