এই দিনে ১২ মেএই দিনে ১২ মে

১৯৭১ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত মুসলিম সমাজ সংস্কারবাদী প্রবন্ধকার সাহিত্যিক সা’দত আলি আখন্দ। বগুড়ার চিংসাপুর গ্রামে ১৮৯৯ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার বাবা সানিউদ্দিন আখন্দ এবং মা করিমুন্নেছা। তিনি বগুড়ার করোনেশন স্কুল থেকে ১৯১৬ সালে প্রবেশিকা, ১৯১৮ সালে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯২০ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বিএ অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। প্রথমে কিছুদিন স্কুলে শিক্ষকতা করে ১৯২২ সালের শেষ দিকে তিনি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। কলকাতার গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত অবস্থায় তিনি আইন কলেজে ভর্তি হন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৯৩৩ সালে আইনশাস্ত্রের ডিগ্রি লাভ করেন। কিন্তু তিনি আইন পেশায় না গিয়ে পুলিশ বিভাগে দারোগা পদে ৩৩ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৫৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। পুলিশ বিভাগে চাকরি করেও সাহিত্যচর্চায় মনোযোগী ছিলেন তিনি। বাঙালি মুসলমান সমাজের নানা অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূর করা নিয়ে ১৯২৮ সালে ‘তরুণ মুসলিম’ নামে একটি প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে তার যাত্রা শুরু হয়। কলকাতায় অবস্থানকালে সওগাত ও বুলবুল পত্রিকায় লিখে মুক্তচিন্তার লেখক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন তিনি। লেখালেখির সূত্রে সেকালের খ্যাতিমান মুসলিম কবি-লেখক-সম্পাদকদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ, জসীম উদ্দীন, আবুল ফজল, সুফিয়া কামাল প্রমুখের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সা’দত আলি আখন্দের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে ‘ইতিহাসের শহীদ’, ‘অতীত ও বর্তমান’, ‘মোহাম্মদ বিন কাসিম’, ‘তেরো নম্বরে পাঁচ বছর’ ও ‘অন্য দিন অন্য জীবন’। সা’দত আলির আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘তেরো নম্বরে পাঁচ বছর’ ষাটের দশকে দুই বাংলার পাঠকসমাজে জনপ্রিয় ছিল। বাংলা একাডেমি ১৯৯০ সাল থেকে ‘সা’দত আলি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান করে আসছে এবং ২০০৯ সালে ‘সা’দত আলি আখন্দ রচনাবলি’ প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি।