ওসি মোয়াজ্জেমকে রংপুরে সংযুক্ত প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত সোনাগাজী মডেল থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে রংপুরে। গতকাল শনিবার দুপুরে শহরের লালবাগ এলাকায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেমের প্রতি জুতা প্রদর্শন এবং তাকে রংপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বদলির আদেশ প্রত্যাহারের

           

 জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে বদলির ওই আদেশ প্রত্যাহার করা না হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে স্মারকলিপি প্রদানসহ টানা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সমাবেশ শেষে লালবাগ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এদিকে মোয়াজ্জেমকে রংপুরে বদলির সংবাদে গত শুক্রবার থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়। রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ অনেক শিক্ষার্থীরা ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেমকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর গত বুধবার সোনাগাজী মডেল থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চার পুলিশ কর্মকর্তার গাফিলতি ও অসদাচরণের প্রমাণ পেয়েছিল পুলিশের ওই তদন্ত কমিটি।

গত ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার অনুসারীরা। সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তারা এ ঘটনা ঘটায়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত। এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া এবং মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।