পার্লামেন্টে হাতাহাতি

একটি আইনের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে পার্লামেন্ট কক্ষে মারামারিতে জড়িয়েছেন হংকংয়ের আইনপ্রণেতারা। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকালে আইনটির সংশোধনী বিল পাস হওয়া নিয়ে সাংসদদের তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

হংকংয়ের কোনো বাসিন্দার নামে চীনে, ম্যাকাউ কিংবা তাইওয়ানে মামলা হলে, তাকে প্রয়োজনে সেসব স্থানে পাঠানোর বিধান রেখে এই আইন সংশোধনীর প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে।

পার্লামেন্টে মাইক্রোফোনের দখল নিয়ে এই হাতাহাতির সূত্রপাত। হংকংপন্থি আইনপ্রণেতা গ্যারি ফেন এ সময় মাটিতে পড়ে যান, পরে তাকে স্ট্রেচারে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চীনপন্থি অপর এক সাংসদও হাতে আঘাত পান, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ সংশোধনী অনুমোদিত হলে চীনের মূল ভূখণ্ড, ম্যাকাও কিংবা তাইওয়ানে হংকংয়ের কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ওই সমস্ত স্থানে পাঠিয়ে বিচারের আওতায় আনা যাবে।  হংকংপন্থি আইনপ্রণেতারা এই সংশোধনী অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন। গণমাধ্যমকে তারা

জানান, এ সংশোধনীর অনুমোদন হংকংয়ের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। এ আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হলে যখন-তখন বিচারের নামে হংকংয়ের নাগরিকদের সহজেই চীনের হাতে তুলে দেওয়া যাবে। সেখানে অস্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন তারা।

তারা মনে করেন, পেইচিংপন্থি আইনপ্রণেতারা এমনটা চাইলেও হংকংয়ের আপামর মানুষ তা চান না। হংকংয়ের বিভিন্ন স্থানে এ নিয়ে মাসব্যাপী আন্দোলন চলছে।

হংকংপন্থিদের আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান করে পেইচিংপন্থি আইনপ্রণেতারা বলেন, হংকংয়ের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলা নয় বরং তাইওয়ানে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আসা হংকংয়ের নাগরিককে সঠিক বিচারের আওতায় আনার জন্য আইনে এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনটি আনা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ব্রিটেন কর্র্তৃক চীনের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে চালু ‘এক দেশ দুই নীতি’ অনুযায়ী ৫০ বছরের জন্য রাজনীতিক, সামাজিক ও আইনগত স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে সাংবিধানিকভাবে সক্ষম আধাস্বায়ত্তশাসিত হংকং।