বিএনপি নেতা সানুর ‘খবর নেই’ পুলিশের কাছে

সিরাজগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন সানুর হদিস এখনো মেলেনি। গত শুক্রবার দুপুরে সাদা পোশাকধারী দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে স্বজন ও বিএনপি নেতারা। তবে সিরাজগঞ্জ সদর থানার দুই কর্মকর্তার দাবি, সানুর বিষয়ে কোনো খবর নেই তাদের কাছে। এমন বাস্তবতায় উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে সানুর স্বজনদের।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সানুর স্ত্রী মুন্নি খাতুন মুঠোফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার তিনটি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে আমি কোথায় যাব, কার কাছে যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না। শুক্রবার দুপুর থেকে বারবার থানায় যাচ্ছি। থানাপুলিশ এ বিষয়ে কিছুতেই মুখ খুলছে না। আমাদের আশঙ্কা, সানুকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাত স্থানে গুম করে রেখেছে। কোথায় আছে, কেমন আছে, পুলিশ কিছুই বলছে না। আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সানুর নামে গ্রেপ্তার হওয়ার মতো কোনো মামলা নেই। আগের সবগুলো মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। শুধু বিএনপির রাজনীতি করে বলে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার অভিযানে মোট ছয় পুলিশ অংশ নেয়। এর মধ্যে তিনজনকে চেনা গেছে। এরা হলেন সদর থানার এসআই  আবদুল আজিজ, এসআই আনিছ ও এসআই জাফর। তার পরও সদর থানার ওসি আবু দাউদ তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অকপটে অস্বীকার করছেন। ফলে আমাদের আশঙ্কা, তাকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশ এমন নাটক করছে। আমার স্বামীকে আমি জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। এজন্য আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সানুর বাবা বিশা শেখ কান্নাকাটি করে বলেন, ‘সানু কোনো মাদক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত না। কোনো অবৈধ কাজের সাথেও জড়িত নয়। তার পরও পুলিশ তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে। আমি আমার ছেলেকে জীবিত অবস্থায় ফিরে চাই।’

সানুর বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি সানুর হদিস জানতে বারবার থানায় যাচ্ছি। ওসি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলেই তিনি মুচকি হেসে বলেন, আমরা এর কিছুই জানি না। অথচ দিনের বেলায় লোকজনের সামনে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেকেই তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছে। তার পরও ওসি অস্বীকার করছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি আবু দাউদ ও এসআই আজিম জানান, সানুকে আটক করা হয়নি। এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো খবরও নেই। এর আগে গত শুক্রবার ইফতারের পর দ্রুত সানুর সন্ধান দেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ও তার স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে সানুর পরিবারের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, বিএনপি নেতা নাজমুল হাসান রানা, আবু সাইদ সুইট প্রমুখ।