ষষ্ঠ বিয়েতে অনুমতি না দেওয়ায় চতুর্থ স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম

বরগুনার আমতলীতে ষষ্ঠ বিয়েতে অনুমতি না দেওয়ায় চতুর্থ স্ত্রী নাসিমা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্বামী নিজাম মাতুব্বর।

আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব চুনাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে আমতলী থানায় নিজাম মাতুব্বরসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন চতুর্থ স্ত্রী নাসিমা বেগম। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, পঞ্চম স্ত্রী নীলা বেগম, পঞ্চম স্ত্রীর মা রেহেনা বেগম ও স্থানীয় চৌকিদার মো. জাকির।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুনাখালী গ্রামের নিজাম মাতুব্বর পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। একের পর এক মোট পাঁচটি বিয়ে করছেন তিনি। এখন ষষ্ঠ বিয়ের জন্য চতুর্থ স্ত্রী অনুমতি না দেওয়ায় তাকে কুপিয়ে জখম করেন তিনি ।

সর্বপ্রথম ১৯৯৫ সালে তিনি জাহানারা বেগমকে বিয়ে করেন। সেই ঘরে দুটি সন্তান আসলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাকে তালাক দেন। এর পরেই খাজিদা নামের এক নারীরে সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তিনটি পুত্র সন্তান রেখে তাকে তাড়িয়ে দেন। এরপর মারুফা বেগমকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন। তাকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে প্রথম স্ত্রীর সন্তান রিয়নের বিরুদ্ধে। পরে তাকেও তাড়িয়ে দেয়া  হয়।

২০০৭ সালে নাসিমা বেগমকে চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন নিজাম। নাসিমার ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে চতুর্থ স্ত্রী নাসিমাকে না জানিয়ে পঞ্চম স্ত্রী হিসেবে একই এলাকার ১৩ বছরের নীলা নামের এক মেয়েকে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। এতেও সন্তুষ্ট নন তিনি। বর্তমানে ষষ্ঠ বিয়ের জন্য চতুর্থ স্ত্রী নাসিমা ও পঞ্চম স্ত্রী নীলার সম্মতি চায়। পঞ্চম স্ত্রী নীলা সম্মতি দিলেও চতুর্থ স্ত্রী নাসিমা সম্মতি দেয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজাম মাতুব্বর গত ৬ মে  ঘরের মধ্যে আটকিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে চতুর্থ স্ত্রী নাসিমাকে। এ সময় নাসিমা চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজনে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বর্তমানে নাসিমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নাসিমার বাবা সফেজ খলিফা অন্ধ। মা চলাফেরা করতে পারে না। অর্থের অভাবে নাসিমার চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।

রবিবার ১২ মে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, নাসিমা শরীরের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সেলাই করা হয়েছে। সে চলাফেরাও করতে পারছে না।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নাসিমার বাহু, কোমর, পিঠ ও রানে গুরুতর জখম হয়। এছাড়াও নাসিমার স্পর্শকাতর স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসা চলছে শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন আশা করি।

আহত নাসিমা বেগম বলেন, বিয়ের ১২ বছরে শতাধিক বার মারধর করেছে। মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে ওর সংসার করছি। আমার বিয়ের আগে দুই স্ত্রীকে ছেলে সন্তান রেখে তালাক দিয়েছে। একজনকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। এ বছর জানুয়ারি মাসে নীলা নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। এখন আবার ষষ্ঠ বিয়ের জন্য আমার সম্মতি চায়। আমি এতে সম্মতি না দেয়ায় আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

নিজাম মাতুব্বরের প্রথম স্ত্রীর ছেলে রিয়ন জানান, বাবা এ পর্যন্ত পাঁচটি বিয়ে করেছে। আবারও ষষ্ঠ বিয়ে করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার ষষ্ঠ বিয়েতে আমি বাঁধা দেয়ায় আমাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে। বাবার জন্য আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারি না। বিয়েতে বাধা দেয়ায় সৎ মা নাসিমাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে বলেও তিনি জানান ।

এ বিষয়ে নিজাম মাতুব্বরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে একাধিক বিয়ে ও স্ত্রী নাসিমাকে মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে এবং স্ত্রী আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে চায় এ জন্যই কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। আমি ইচ্ছা করে তাকে মারিনি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, নিজাম মাতুব্বর একের পর এক বিয়ে করছে। আবার বিয়ে করতে বাঁধা দেয়ায় চতুর্থ স্ত্রীকে মারধর করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি।