হাওর, দ্বীপ বা চর উপজেলা হিসেবে ঘোষণার পর দুর্গম এসব অঞ্চলে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ভাতা দেবে সরকার। গতকাল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, ওইসব অঞ্চলে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সর্বনিম্ন এক হাজার ৬৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা বিশেষ ভাতা পাবেন।
গতকাল রবিবার ভাতা নির্ধারণ করে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ৫ মে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত এই ভাতা চলতি বছরের ৫ মে থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
দুর্গম বিবেচনায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৬টি দ্বীপ, হাওর ও চর উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, নোয়াখালীর হাতিয়া, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার মনপুরা। এছাড়া সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, শাল্লা ও দোয়ারাবাজার, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলাকেও হাওর, দ্বীপ বা চর উপজেলার হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।
১৬ উপজেলায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর প্রস্তাব করে গত ৭ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বর্তমান নিয়মে পার্বত্য জেলা সদর ও সদর উপজেলায় নিযুক্ত সকল সরকারি কর্মচারী মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা এবং অন্যান্য উপজেলায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেলের ২০তম গ্রেডের কর্মরতরা মাসে এক হাজার ৬৫০ টাকা, ১৯তম গ্রেডের চাকরিজীবীরা এক হাজার ৭০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডে এক হাজার ৭৬০ টাকা, ১৭তম গ্রেডে এক হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে এক হাজার ৮৬০, ১৫তম গ্রেডে এক হাজার ৯৪০ টাকা ও ১৪তম গ্রেডের কর্মরতরা দুই হাজার ৪০ টাকা বিশেষ ভাতা পাবেন। এছাড়া, ১৩তম গ্রেডে দুই হাজার ২০০ টাকা, ১২তম গ্রেডে দুই হাজার ২৬০ টাকা, ১১তম গ্রেডে আড়াই হাজার টাকা, ১০ম গ্রেডে তিন হাজার ২০০ টাকা, নবম গ্রেডে চার হাজার ৪০০ টাকা, ৮ম গ্রেডে চার হাজার ৬০০ টাকা এবং ৭ম গ্রেড থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা পাঁচ হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা পাবেন।