বন্দি জঙ্গিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ

কারাগারের ভেতর থেকে জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যেন সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো তৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা। এ ছাড়া শৃঙ্খলা ও মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে কারারক্ষীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রবিবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে ১১তম ডেপুটি জেলার ও ৫৫তম কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারাগারে নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ প্রদর্শন নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অপরাধীদের চরিত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে সফল করতে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলেই আমাদের কারাগার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযুক্ত হবে।

এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা জানান, বন্দিদের কল্যাণে রমজান মাসে ইফতারিতে বরাদ্দের পরিমাণ ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। সকালের নাশতা, রুটি ও গুড়ের পরিবর্তে সপ্তাহে দুই দিন খিচুড়ি, এক দিন হালুয়া-রুটি ও চার দিন সবজি-রুটি সরবরাহ করা হবে। বন্দিদের মধ্যে সরবরাহ করা তিনটি কম্বলের মধ্যে একটি কম্বলের পরিবর্তে প্রতিজন বন্দিকে একটি করে বালিশ সরবরাহ করা শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার ৬৬৪-তে উন্নীত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন। অন্যদের মধ্যে কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. বজলুর রশীদ, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২-এর সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা, কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ, কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার তারিকুল ইসলামসহ কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১১তম ডেপুটি জেলার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ২৬ জন পুরুষ, ২৬ জন নারীসহ ৫২ জন ডেপুটি জেলার এবং ৫৫তম কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ৩২২ জন পুরুষ কারারক্ষী প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।