রানীর যত সম্পদ

ছয় দশক ধরে রাজসিংহাসনে অধীন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। দীর্ঘ সময় ধরে সিংহাসনে থাকার পরও তাকে নিয়ে আগ্রহে ভাটা পড়েনি। রানী এলিজাবেথের ধনসম্পদের পরিমাণ ঠিক কত, তার এই সম্পদের উৎসই বা কী এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই সাধারণ মানুষের মনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ফোর্বস সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুসারে রানীর সম্পদ ও এর উৎস নিয়ে লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ

রাজপরিবারে বেশি সম্পদ রানীর

 

এলিজাবেথ আলেকজান্দ্রা মেরি বা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ১৯২৬ সালের ২১ এপ্রিল রাজা ষষ্ঠ জর্জ এবং কুইন এলিজাবেথের জ্যেষ্ঠ এই কন্যার জন্ম। ১৯৫৩ সালে ব্রিটেনের সিংহাসনে আরোহণ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বেশি সময়  সিংহাসনে থাকার ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

জুয়েলারি, বিভিন্ন প্রাসাদ, সম্পত্তির হিসাব যদি করা হয় তবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্পদ রয়েছে ৮৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। কিন্তু সেটা তো রাজপরিবারের সম্পদ। রাজপরিবারে অনেক সদস্য। তাদের কার সম্পদ সব থেকে বেশি? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে রানীর সম্পদ সবচেয়ে বেশি। ফোর্বস সাময়িকী অনুসারে রানীর মোট সম্পদের আনুমানিক মূল্য হতে পারে ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিভিন্ন খাত থেকে তিনি বছরে পান ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। রানীর তিনটি প্রধান আয়ের উৎস রয়েছে। একটি হচ্ছে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে বাৎসরিক হারে পাওয়া সভরেইন গ্রান্ট, ডাচি অব ল্যাঙ্কাসটার এস্টেট এবং তার ব্যক্তিগত বিভিন্ন সম্পত্তি ও বিনিয়োগ।

 

ক্রাউন এস্টেট

মূলত ক্রাউন এস্টেট থেকে প্রাপ্ত আয়ই রানীকে ধনীর তালিকায় প্রবেশ করিয়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ক্রাউন এস্টেট থেকে রানী পেয়েছেন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। যার পুরোটাই করমুক্ত। ক্রাউন এস্টেটের বেশির ভাগ সম্পত্তি মূলত লন্ডনে। এর বাইরে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দান আয়ারল্যান্ডেও সম্পদ রয়েছে। রয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার একর খামার, আবাসিক সম্পত্তি, বাণিজ্যিক কার্যালয়, দোকান, পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনার রাজস্ব।

এই ক্রাউন এস্টেটের সব সম্পদ রানীর মালিকানাধীন। কিন্তু মালিকাধীন হলেও তিনি তা বিক্রি করতে পারবেন না। এই এস্টেটের সমস্ত লাভ জমা হয় সরকারি কোষাগারে। সেখান থেকে রাজপরিবারের অভিভাবক হিসেবে মোট লাভের ২৫ শতাংশ পান রানী। কারণ তিনিই রাজপরিবারের অভিভাবক। একে সভরেইন গ্রান্টও বলা হয়।

তবে এই আয় রানী তার ব্যক্তিগত কাজের জন্য খরচ করতে পারবেন না। রাজপরিবারের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ, সম্পত্তি দেখাশোনা, বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ এবং আনুষঙ্গিক খাতে রানী এসব অর্থ খরচ করতে পারবেন।

রানীর বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসটিও ক্রাউন এস্টেটের অংশ। এই প্রাসাদে রয়েছে মোট ৭৭৫টি কক্ষ। যদিও এই প্রাসাদটি বিক্রির জন্য নয় তবুও প্রাসাদটির আনুমানিক মূল্য হতে পারে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার। রয়েছে ১৭ শতাব্দী থেকে ব্রিটিশ রয়্যাল ফ্যামিলির বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত কেনসিংটন প্যালেস। এই প্রাসাদটিও কিন্তু বিক্রি করা যাবে না। এর আনুমানিক মূল্য হতে পারে ৬০০ মিলিয়ন ডলার। এ সবই রানীর মালিকানাধীন।

 

রানীর বেতন

রানী কিন্তু বেতনও পান। বর্তমানে রানীর বাৎসরিক বেতন ৯৭.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে রানী যেমন বেতন পান তার খরচও কিন্তু তেমন। তার বেতনের বেশির ভাগই খরচ হয় বাকিংহাম প্যালেসের মেরামত ও কর্মচারীদের মাইনে দেওয়ার পেছনে। রানীর বেতন যায় সভরেইন গ্রান্ট থেকে। যার দায়িত্বে রিয়েছে ইংল্যান্ডের ট্রেজারি। রানীর খরচের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন বছর রানীর বেতনও বাড়ানো হয়।

 

ডাচি অব ল্যাঙ্কাসটার

রানীর আয়ের আরেকটি উৎস হলো রানীর মালিকানাধীন দ্য ডাচি অব ল্যাঙ্কাসটার। এর আওতাধীন মোট জায়গার পরিমাণ ৪৬ হাজার একর আর তার আনুমানিক মূল্য ৭৪০ মিলিয়ন ডলার। এই সম্পত্তির মালিক রাজপরিবারের অভিভাবক হিসেবে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। কিন্তু তিনি এটা বিক্রি করতে পারবেন না। তবে এখান থেকে যে আয় হবে তা তিনি পাবেন পুরোটাই। তার ভাগ কাউকে দিতে হবে না। এখানে যে পরিমাণ জমি ও সম্পদ রয়েছে তার থেকে বছরে আয় হয় প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার। এই আয়ের টাকা দিয়ে রানী তার ব্যক্তিগত খরচ ও রাজপরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেন। রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্য যেমন প্রিন্সেস অ্যান, দ্য ডিউক অব ইয়র্ক, আর্ল অব ওয়েসেক্স ও যারা রাজকাজ পরিচালনায় সাহায্য করেন তাদের খরচ এই আয় থেকেই হয়ে থাকে।

 

ব্যক্তিগত সম্পদ

এছাড়া রানীর ব্যক্তিগত আয়েরও উৎস রয়েছে যাকে বলা হয় ‘প্রিভি পার্স’। এই আয়ও আসে রাজপরিবারের বিভিন্ন ভূ-সম্পত্তি থেকে। তবে তা ক্রাউন এস্টেট থেকে আলাদা। ব্রিটেন এবং ওয়েলসে আছে এসব সম্পদ। রানীর ব্যক্তিগত সম্পদের তালিকায় রয়েছে তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া সম্পত্তি যেমন স্যানড্রিংহ্যাম এস্টেট ও বালমোরাল প্যালেস। এছাড়াও রয়েছে রানীর নিজস্ব বিনিয়োগ ও তার বাবা-মার কাছ থেকে পাওয়া সম্পত্তি। রাজপ্রাসাদ বা রাজকীয় রতœ ভা-ার রানীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। কারণ এগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর বাইরে রাজকীয় স্ট্যাম্প সংগ্রহ, চিত্রকলা, অলংকার, গাড়ি, ঘোড়াসহ অন্যান্য অনেক কিছুর মালিক তিনি। এখান থেকেও তার বড় অংকের আয় হয়।

 

ক্রাউন জুয়েলারি

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাজকীয় মুকুটটিতে বসানো আছে ২৮০০ হীরা। মুকুটের চূড়ায় রয়েছে কোহিনূর। কয়লাখনি থেকে উত্তোলনের পর কোহিনূর ৭৯৩ ক্যারেট ছিল। পরে তা কেটে ১০৫ ক্যারেট দিয়ে রানীর মাথার মুকুট  তৈরি করা হয়। ১৯৩৭ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জের স্ত্রী রানী মাদার কোহিনূরটি পরেন। ১৯৫৩ সালে বর্তমান রানী এলিজাবেথ শাসনক্ষমতায় আসার পর থেকে দুর্লভ এই হীরাটি তার মুকুটের শোভা বাড়িয়েছে। এই মুকুটের আনুমানিক মূল্য ৪ বিলিয়ন ডলার। এটি বর্তমানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের রতœসম্ভারের অংশ হিসেবে টাওয়ার অব লন্ডনে প্রদর্শিত হয়।

তাছাড়া প্রায় ৬শ বছরের বেশি সময়ের পুরনো রাজা এবং রানীর রাজত্বের মুকুট, পোশাক এবং অন্যান্য আইটেম সুরক্ষিত রয়েছে টাওয়ার অব লন্ডনে। এটি যুক্তরাজ্যের অনন্য সংগ্রহশালা। এই সব ক্রাউন জুয়েলারি দেখার জন্য প্রতি বছর হাজারে হাজারে লোক এখানে আসেন। টাওয়ারে বর্তমান স্থাপনায় প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) মানুষ এ ক্রাউন জুয়েলার্স পরিদর্শন করেছেন।

তাছাড়া রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের হীরকজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে রাজপরিবারের ১০ হাজারেরও বেশি হীরার অলংকার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। বাকিংহাম প্যালেসে প্রদর্শনীর নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ডায়মন্ডস : এ জুবলি সেলিব্রেশন’। প্রদর্শনীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরকখণ্ড প্রথম কুলিনানও ছিল। ৫৩০ ক্যারেট ওজনের এ রতœটি দেখার জন্যও ভিড় জমিয়েছিল অনেক মানুষ। এসব খাত থেকে যা আয় হয়েছে তার সবই যায় রানীর কোষাগারে।

ঘোড়া প্রেম

রানীর ঘোড়ার প্রতি ভালোবাসার কথা সে তো সবারই জানা। তার প্রায় সবগুলো ঘোড়া ক্ল্যাসিক রেস জিতেছে। তিনি তার সবগুলো রেসের ঘোড়ার নাম জানেন। তার সেই ভালোবাসার সম্মান জানাতে উইন্ডসর ক্যাসেলের উঠোনে রাতভর চলে অশ্বারোহীদের কসরত। ব্রিটিশ হর্সিং অথরিটির হিসাব অনুযায়ী গত বছর ঘোড়া রেস থেকে রানী জিতেছেন ৫ লাখ ৮৩ হাজার মার্কিন ডলার। রানী যখন স্যানড্রিংহ্যাম এবং বালমোরালের প্রাইভেট হোমে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ান, কখনোই সিটবেল্ট পরেন না কিংবা মাথায় চাপান না শক্ত টুপি। শুধু একটি স্কার্ফ বেঁধে নেন মাথায়।

পর্যটন খাত

রানীর প্রদর্শিত সম্পদের পাশাপাশি রয়েছে বিপুল অপ্রদর্শিত সম্পদ। যেমন ধরা যাক, গোটা ইংল্যান্ডের পর্যটন খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থের কথাই। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমান পর্যটক শুধু ইংল্যান্ডের বাকিংহাম প্যালেস দেখতেই আসেন। রাজপ্রাসাদের পাশাপাশি যতগুলো ব্রিটিশ জাদুঘর রয়েছে তার সবগুলো থেকে বছরে যা আয় হয় তা সম্পূর্ণ আয়করের আওতামুক্ত এবং সরাসরি রানীর কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু বাস্তবতা রানীর ধনসম্পদের পরিমাণ কখনো স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি। এর কারণ হলো, রানীকে তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ কত, তা ঘোষণা করতে হয় না।

এছাড়াও রানীর মালিকানাধীন রয়েছে আরও কিছু অদ্ভুত জিনিস। যেমন যুক্তরাজ্যের সমুদ্রসীমানার সব তিমি এবং ডলফিনের মালিক রানী। টেমস নদীর সবগুলো হাঁসও তার মালিকানাধীন।

 


রাজপরিবারের অন্যরা

রানীর স্বামী প্রিন্স ফিলিপের সম্পদ রয়েছে ৩০ মিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের। রাজসিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লসের সম্পদের মূল্য ৩৭০ মিলিয়ন ডলার। প্রিন্স চার্লসের আয়ের মূল উৎস হচ্ছে ডাচি অব কর্নওয়াল এস্টেট। যেটা রানীর মালিকানাধীন।

এখান থেকে যে আয় হয় তা প্রিন্স চার্লস ও স্ত্রী ক্যামিলা পার্কার, দুই সন্তান প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির পরিবারের ব্যয় নির্বাহে খরচ হয়। তাছাড়া সোভরেইন গ্রান্ট থেকে বাৎসরিক একটা অর্থ পেয়ে থাকেন রাজসিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকার হিসেবে।

এছাড়াও প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী এবং প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী রানীর পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক কাজে অংশগ্রহণ করার বিনিময়ে অর্থ নিয়ে থাকেন। শুধু বাবা প্রিন্স চার্লসের অনুদানের ওপরই নয়, দুই ভাইই তাদের মা প্রিন্সেস ডায়ানার সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন।

রানীর ছোট দুই ছেলে ডিউক অব ইয়র্ক বলে পরিচিত এন্ড্রু এবং আর্ল অব ওয়েসেক্স বলে পরিচিত এডওয়ার্ড রাজপরিবারের ফুলটাইম কাজ করে থাকেন। বিনিময়ে তারা অর্থ পান।’

 

বিভিন্ন সময়ের কিছু নিলাম

২০০৬ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ছোট বোন প্রিন্সেস মার্গারেটের একটি টায়রা নিলামে তোলা হয়। সেটা বিক্রি হয় ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে। তাছাড়া ব্রিটিশ পোস্টাল সার্ভিসের অব্যবহৃত স্ট্যাম্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বিভিন্ন সময়ে নিলামে তোলা হয়।

গাড়ি

বিশ্বজুড়ে সমাদৃত দ্রুতগতির এবং বিলাসবহুল গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের রোলস রয়েস অন্যতম। একসময় ব্রিটেনের রাজা-রানীরা ব্যবহার করতেন রোলস রয়েস। তখন এসব গাড়ির দাম ছিল আকাশচুম্বী। বছরে মাত্র ৫০০টি গাড়ি তৈরি হতো। ২০১৮ সালে রানী এলিজাবেথের রোলস রয়েস ফ্যান্টম-৪ সিরিজের একটি গাড়ি নিলামে তোলা হয়। ১৯৫৫ সালের সেই গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ৮ লাখ ৫৫ হাজার ডলারে। ফ্যান্টম-৪ সিরিজের এই গাড়িগুলো পৃথিবীর অন্যতম দুর্লভ গাড়ি, এ ধরনের গাড়ি মাত্র ১৮টি তৈরি হয়েছিল।

২০১৭ সালে ডেমলার কোম্পানির সুপার-ভি ৮ সিরিজের আরেকটি গাড়ি নিলামে তোলা হয়েছিল সেটা বিক্রি হয়েছিল ৫৫ হাজার ৫৭৫ ডলারে। ২০১৬ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার প্রিয় অডি ক্যাব্রিওলেট নিলামে উঠেছিল সেটা বিক্রি হয়েছিল ৫৯ হাজার ৫০০ ডলারে।

বিয়ের কেক

যুক্তরাষ্ট্রের বেভারলি হিলসের নিলাম ঘর ‘জুলিয়েন’স অকশন’ ঐতিহাসিক নিদর্শন নিলামে তোলার কারণে বিখ্যাত। প্রিন্সেস ডায়ানা এবং প্রিন্স চার্লসের বিয়ে হয়েছিল ১৯৮১ সালে ৩৮ বছর আগে। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানের এক টুকরো কেক সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে সেই কেক নিলামে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩৭৫ মার্কিন ডলারে।

২০১৪ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ের কেকের একটি টুকরা নিলামে তোলা হয়। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত সেই বিয়ের কেক বিক্রি করা হয় সাড়ে ৭ হাজার মার্কিন ডলারে। প্রিন্সেস ডায়নার ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেলের বিয়ে উপলক্ষে এই নিলামের আয়োজন করা হয়।

 

প্রিন্সেস ডায়ানার পোশাক

১৯৮৫ সালে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় এক ভোজ। ১৯৯৭ সালে সেই ভোজে প্রিন্সেস ডায়ানা যে পোশাকটি পরেছিলেন সেটা নিলামে তোলা হয়। হলিউড অভিনেতা জন ট্রাভোল্টার সঙ্গে প্রিন্সেস ডায়ানা এই পোশাকটি পরে নেচেছিলেন। নিলামে পোশাকটি বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলারে।

 

রানীর পুতুল

 রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ যখন কিশোরী ছিলেন তখন তিনি যে পুতুল নিয়ে খেলতেন সেটিকে নিলামে তোলা হয়েছিল। পুতুলটি ১৯৩৫ সালের দিকের। পুতুলটি রানীর খুব পছন্দের ছিল। রানীর সঙ্গে মিল রেখে নিলাম কোম্পানি তার নাম দেয় দ্য কুইন। ফিরোজা রঙের মখমলের নীলকোট পরা পুতুলটির ছিল কোঁকড়া স্বর্ণকেশী চুল ও নীল চোখ। পুতুলটি নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৩৯০০ ডলারে। তাছাড়া রানী এলিজাবেথ ও প্রিন্সেস মার্গারেটকে তাদের ন্যানি মিকি মাউসের একটি খেলনা সেট দিয়েছিলেন সেটা নিলামে বিক্রি হয়েছিল ১১৬৪ ডলারে। নিলামে তোলা হয়েছে দুই বোনের ফ্লোরাল পোশাকগুলোও।