ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ এ কমিটির তালিকা গণমাধ্যমে পাঠান। গত বছরের ১১-১২ মে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন হয় ছাত্রলীগের। এরপর ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ওইদিন রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগে তাদের নাম ঘোষণা করেন। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগরীর দুটি ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। তারপর দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও প্রায় ১০ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলো। দুই বছর মেয়াদি নতুন এই কমিটি ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে অসন্তোষ জানান পদবঞ্চিতরা। পরে বিক্ষোভও করেন তারা। একই সময় আনন্দ মিছিল করেন নতুন নেতা ও তাদের সমর্থকরা। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ছাত্রলীগের নতুন কমিটি কবে হবে তা নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জনের মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল প্রথম এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশ রূপান্তর। ওই প্রতিবেদনে ২০১ জনের নামও প্রকাশ করা হয়; যাদের প্রায় সবাই রয়েছেন গতকাল প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সঙ্গে সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন ৬১ জন। তারা হলেন আল নাহিয়ান খান জয়, তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, রেজাউল করিম সুমন, সোহান খান, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, আতিকুর রহমান খান, বরকত হোসেন হাওলাদার, আবু সালমান প্রধান শাওন, ইয়াজ আল রিয়াদ, শওকতুজ্জামান সৈকত, এম সাজ্জাদ হোসেন, ইমরুল হাসান নিশু, শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ, সরকার জহির রায়হান, ফুয়াদ রহমান খান, সাদিক খান, ইসরাত কাসফিয়া ইরা, তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী, এস এম তৌফিকুল হাসান সাগর, মো. তৌহিদুর রহমান হিমেল, মাহমুদুল হাসান, নাসির উদ্দিন, মনজুর মোর্সেদ অসীম, সাইফুল ইসলাম জনি, শহিদুল ইসলাম, সুজন ভূঁইয়া, ফরহাদ হোসেন তপু, তৌহিদুর রহমান পরশ, আপেল মাহমুদ, কামাল খান, আলিমুল হক, আওলাদ খান, সৈয়দ আরিফ হোসেন, মাজহারুল ইসলাম শামীম, আসাদুজ্জামান সোহেল, খালিদ হাসান নয়ন, জাহাঙ্গীর মঞ্জিল পিপাস, আবু সাঈদ (সাস্ট), আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নুরে-আলম আশিক, তানজিদুল ইসলাম শিমুল, রুহুল আমিন, ইসমাইল হোসেন তপু, মহিউদ্দিন শিকদার লিপু, নজরুল ইসলাম, সোহানী হাসান তিথি, মাহমুদুল হাসান তুষার, এস এম হাসান আতিক, সুরঞ্জন ঘোষ, মাজহারুল ইসলাম মিরাজ, জিয়ান আল রশিদ, হাফিজুর রহমান, আরিফুল ইসলাম আরিফ (জাবি), রাকিব উদ্দিন, সোহেল রানা, আয়নাল সর্দার, নিশাত সাদিয়া খান মিলি, মুনমুন নাহার বৌশাখী, অসীম কুমার বৈদ্য, তরিকুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান সম্রাট।
সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন ১১ জন। তারা হলেন লেখক ভট্টাচার্য, প্রদীপ চৌধুরী, আরিফুজ্জামান আল ইমরান, শামস-ই-নোমান, মো. শাকিল ভূঁইয়া, মহিউদ্দিন আহম্মেদ, মোর্শেদুল হাসান রুপম, মাহাবুব খান, বেনজীর হোসেন নিশি, বেলাল হোসেন বিদ্যুৎ ও তাহসান আহম্মেদ রাসেল।
কমিটির মোট ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদক হলে মামুন বিন সাত্তার, সাজ্জাদ হোসেন, ফেরদৌস আলম, মুজাহিদুল ইসলাম সোহাগ, সাদ বিন কাদের, সোহানুর রহমান সোহান, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, নাজিম উদ্দিন, নাজমুল সিদ্দিকি নাজ, রফিকুল ইসলাম বাঁধন ও সাবরিনা ইতি।
কমিটিতে অর্থবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন রাকিব হোসেন। উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক চারজন। তারা হচ্ছেন মেহেদী হাসান, বোরহান উদ্দিন, তড়িৎ চৌধুরী ও মহসিন খন্দকার। আইনবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত। উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক চারজন। তারা হচ্ছেন মো. সুজন শেখ, শাহাদুল হাসান আল মুরাদ, বি এম শরিফুল ইসলাম সবুজ ও আপন দাস। পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন শামীম পারভেজ। এই কমিটিতে আছেন তিনজন উপ-সম্পাদক। তারা হচ্ছেন কে এম রাসেল, মোস্তাক আহম্মেদ সোহাগ ও বাদশা শাওন। স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন পুতুল চন্দ্র রায়। উপ-স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক তিনজন। তারা হচ্ছেন রোকনুজ্জামান রোকন, আবদুল কাইউম হীরা ও পলাশ কুমার দাস। ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন আল-আমীন সিদ্দিক সুজন। উপ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন মেহেদি হাসান, এনামুল হক তানান ও বায়েজিদ কোতয়াল।
বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পদক সাদুন মোস্তফার সঙ্গে উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক রয়েছেন চারজন। তারা হলেন আবু সাইদ কনক, সবুর খান কলিন্স, খন্দকার হাবিব আহসান ও মো. মাহফুজুর রহমান। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাকিনুল হক চৌধুরী। আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন ফুয়াদ হাসান, মিহির রঞ্জন দাস, এম এম মাহবুবুর রহমান সালেহী, ওয়াহিদুজ্জামান লিখন ও এম এম শওকত হোসেন। পাঠাগার সম্পাদক জাভেদ হোসেনের সঙ্গে উপ-সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন জিয়াসমিন শান্তা, শাহিন আলম, রুশী চৌধুরী ও আতিকুল ইসলাম। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মণের সঙ্গে উপ-সম্পাদক হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন আবদুর জব্বার রাজ, সরোয়ার আলম ও আসাদুল ইসলাম রুবেল।
তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক কমিটিতে সম্পাদক হয়েছেন শাকিল আহমেদ জুয়েল বাবু। সঙ্গে উপ-সম্পাদক রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন রশিদ শাহরিয়ার উদয়, আশিকুর রহমান রুপক, সাদিকুল ইসলাম, আবদুল হামিদ, আক্তার হোসেন। ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তাজ উদ্দিন। তার সঙ্গে রয়েছেন চারজন উপ-সম্পাদক। তারা হলেন মনিরুজ্জামান বাবু, জামান শাহেদ, রবিন বাহাদুর ও রিন্টু বড়–য়া। গণশিক্ষা বিষয়ে সম্পাদক হয়েছেন আবদুল্লাহ হীল বারী। উপসম্পাদক রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন নাহিদ উকিল জুয়েল, মনিরুজ্জামান তরুণ ও সোলায়মান হোসেন মুন্না। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হয়েছেন ইমরান জমাদ্দার। সঙ্গে উপ-সম্পাদক রয়েছেন চারজন। তারা হলেন ফেরদৌস শাহরিয়ার নিলয়, ফারুক আহম্মেদ, সালেকুর রহমান শাকিল, মাজহারুল রহমান শাকিল ও মাজহারুল হক মাহফুজ। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন শাহরিয়ার ফেরদৌস হিমেল। সঙ্গে রয়েছেন চার উপসম্পাদক। তারা হলেন শাফিউল ইসলাম সাজিব, ফুরকান চৌধুরী, ডা. শাহজালাল ও রাতুল সিকদার। সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ তালুকদার। সঙ্গে রয়েছেন তিনজন উপ-সম্পাদক। তারা হলেন শরিফুল ইসলাম, সর্দার আরিফুল ইসলাম ও রিয়াদ হাসান। প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন হায়দার মোহাম্মদ জিতু। সঙ্গে রয়েছেন তিনজন উপ-সম্পাদক। তারা হলেন মেশকাত হোসেন, বি এম ইমরান হোসেন মানিক ও মো. সোহাগ হোসেন। কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মো. রণি। উপ-সম্পাদক হয়েছেন চারজন। তারা হলেন খাদেমুল বাশার জয়, তানভীর রহমান মাহীদ, বায়জিদ হোসেন ও অভিমন্যু বিশ্বাস অভি। নাট্য ও বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন জুয়েল মোল্লা। তার সঙ্গে রয়েছেন তিনজন উপ-সম্পাদক। তারা হলেন মাজহারুল কবির শয়ন, নুরে আলম লিটন ও নাইমুর রহমান রানা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন আসিফ ইকবাল অনিক। সঙ্গে রয়েছেন পাঁচ উপ-সম্পাদক। তারা হলেন ওবায়দুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান খান, মো. তুষার, রাকিবুল ইসলাম সাকিব ও সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আপ্যায়ন সম্পাদক হয়েছেন আশরাফুল ইসলাম ফাহাদ। সঙ্গে রয়েছেন চার উপ-সম্পাদক। তারা হলেন হারুন-অর-রশিদ, শাহিন তালুকদার, খাজা খায়ের সুজন ও শাহরিয়ার মাহমুদ রাজু। মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন মেহেদী হাসান তাপস। সঙ্গে রয়েছেন তিন উপ-সম্পাদক। তারা হলেনÑ আরিফ মাহমুদ (৭১ হল), হেলাল উদ্দিন ও রনক জাহান রাইন। মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক হয়েছেন মো. নাহিদ হাসান শাহিন। সঙ্গে রয়েছেন চার উপ-সম্পাদক। তারা হলেন হীরণ ভূঁইয়া, সোলায়মান খান সুজন, মহিউদ্দিন অপু ও বেলাল হোসেন মুন্না। ছাত্র-বৃত্তি সম্পাদক হয়েছেন আতাউল গনি কৌশিক। সঙ্গে রয়েছেন চার উপ-সম্পাদক। তারা হলেন ইউসুফ উদ্দিন খান, শ্রাবনী শায়লা, শাহনেয়াজ কবির সানী ও ফৌজিয়া ইসলাম তামান্না। কৃষি-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন মাকসুদুর রহমান মিঠু। সঙ্গে রয়েছেন তিন উপ-সম্পাদক। তারা হলেনÑ মিজানুর রহমান রুদ্র, মিয়া মোহাম্মদ রুবেল ও রবিউল ইসলাম হাসিব। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন সাদ্দাম হোসেন। সঙ্গে উপ-সম্পাদক রয়েছেন চারজন। তারা হলেনÑ আল-মামুন, আল ইমরান, শাহাদত হোসেন ও এম নজরুল ইসলাম।
সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোট ২৩ জন। তারা হলেন ফারজানা ইয়াসমিন রাখি, আশিক খান, তামান্না তাসনিম তমা, মো. ফজলে রাব্বি খান, শরিফ হাসান, মো. মেহেদী হাসান রাজু, নওমি সুমাইয়া রহমান, সীমান্ত হোসেইন, রেজাউল করিম (টঙ্গী কলেজ), সাইদ খান শাওন, রুবেল হোসেন, রনি চৌধুরী, ওমর ফারুক পাংকু, সোহেল ভূঁইয়া, রাশেদ ফেরদৌস আকাশ, আসমা সিদ্দিকা আশা, ফারুক হোসেন, সৈয়দ ফয়সাল হাসান, আঞ্জুমানারা অনু, মারুফ মোর্শেদ পাভেল, সাইফুর রহমান (সিলেট) রাফি সাকিব ও শেখ আরজু।
কমিটির ১২ নির্বাহী সদস্য হলেন ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি, আশিকুজ্জামান বাপ্পী, ফয়সাল করিম দাউদ খান, আশিকুর রহমান রাজিব, পরশ রহমান রাফসানজানী, শাহাদাৎ হোসেন রকি, সাখাওয়াত হোসেন মিলন, সাইফুল সিরাজ, কাওসার আহমেদ বিজয়, রহিমা আক্তার মুক্তি ও রাকিব বিন আলমগীর।