কেরানীগঞ্জ কারাগারে খালেদার বিচারিক আদালত বসবে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো, গ্যাটকো, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতিসহ ১৭টি মামলার বিচারকাজ চালানোর জন্য কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত রবিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনের অস্থায়ী আদালতে এ মামলাগুলোর বিচারিক

কার্যক্রম চলবে। দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে রয়েছেন। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে এক বছরের বেশি সময় বন্দি থাকার পর গত ১ এপ্রিল তাকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারকাজ বর্তমানে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার ও বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের বিশেষ আদালতে চলছিল। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুসসালাম থানায় নাশকতার অভিযোগে করা আট মামলা, যাত্রাবাড়ীতে বাসে অগ্নিকাণ্ডের মামলা এবং মানহানির অভিযোগে করা তিন মামলা।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর ও অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। একই দিন থেকে তাকে রাখা হয় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। এরপর গত বছর ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টের রায়ে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বেড়ে ১০ বছর হয়। আগের দিন ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।