নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় হাইকোর্ট বলেছে, যৌতুকের দাবিসহ যে কোনো অজুহাতে স্বামী যদি তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে তবে তা নিন্দনীয় ও গর্হিত অপরাধ। আর এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে যদি ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয় এবং তারা দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখতে চায়, সেক্ষেত্রে আইনের বিধান যত কঠিনই হোক না একটি সংসার রক্ষা করার চাইতে সেটি বড় হতে পারে না। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো.
মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই মামলার পর্যবেক্ষণে এমন মন্তব্য করেছে। গত ১০ এপ্রিল দেওয়া মামলার রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১১ (গ) ধারাকে আপসযোগ্য করতে ছয় মাসের মধ্যে এই আইন সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত রোববার (১২ মে) সুপ্রিম কোর্টের ওয়বেসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
চট্টগ্রামের একটি আদালতে ২০১২ সালের ২৩ জুলাই স্ত্রী লাভলি আক্তারের করা মামলায় স্বামী শফিকুল ইসলামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (গ) ধারায় বিচারিক আদালতের দেওয়া তিন বছরের সাজা বাতিল করে তাকে খালাস দেয় হাইকোর্ট।
২০১২ সালের জানুয়ারিতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর লাভলি আক্তারের সঙ্গে উপজেলার গচিহাটা গ্রামের শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। শফিকুলের চাকরির সুবাদে তারা চট্টগ্রামে বসবাস শুরু করেন। এরই মধ্যে যৌতুক চাওয়ার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৩ জুলাই চট্টগ্রামের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (গ) ধারায় মামলা করেন লাভলি। ২০১৪ সালে মামলার রায়ে শফিকুলকে ৩ বছরের কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত। রায়ের সময় শফিকুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। পরে শফিকুল নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে তিনি সাজা থেকে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১৬ সালের মার্চে হাইকোর্ট তাকে জামিন দেয়। একপর্যায়ে শফিকুল ও লাভলির মধ্যে বিরোধ মিটে যায় এবং একটি পুত্রসন্তান হয় তাদের। গত ১০ এপ্রিলের রায়ে হাইকোর্ট শফিকুলের দ- বাতিল করে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, একটি সংসার ভেঙে গেলে তার পারিবারিক ও সামাজিক নেতিবাচক দিক সুদূরপ্রসারী। এতে শুধু সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ই ঘটে না তাদের সন্তান এমনকি নিকট আত্মীয়-স্বজনের ওপরেও এর গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রায়ে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ১১ (গ) এবং যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ও ৪ ধারার অপরাধসমূহের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পারিবারিক, সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি সুনিশ্চিতের পাশাপাশি মামলা জট নিরসনের স্বার্থে ১১ (গ) ধারার অপরাধটি অনতিবিলম্বে আপসযোগ্য করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনটি সংশোধন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আইনের ১১ (গ) ধারার অপরাধ আপসযোগ্য করার লক্ষ্যে এ রায় পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন এবং লেজিসলেটিভ এবং সংসদ বিষয়ক সচিবকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।