নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান দ্বন্দ্ব নিরসন হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আইনগত কারণেই ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর আইনের সব তথ্য এখন প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে আইনে ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর কোনো কিছু থাকবে না, নতুন বাজেটে ভ্যাটহার ব্যবসায়ীবান্ধব হবে। এটা বুঝানোর পর ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। গতকাল শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাকক্ষে এনবিআর ও এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের আর কোনো আপত্তি নেই। আইনটির বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল; সেটি পুরোপুরি কেটে গেছে। আসছে বাজেটে কোনো পণ্যে ভ্যাটের হার বাড়বে না বরং কমবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন দুই-এক দিনের কাজ নয়। এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনযোগ্য। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পরও কোথাও কোনো সীমাবদ্ধতা দেখা দিলে তা জনবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব করতে পরিবর্তন করা হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ঝামেলাহীনভাবে নতুন আইন ১ জুলাই থেকেই বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। নতুন আইনে ভ্যাটহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো পণ্যে ভ্যাট বাড়বে না বরং কমবে। তবে ভ্যাটের আওতা বাড়বে। ভ্যাট দিতে কেউ কষ্ট পাবে না। কোন পণ্যে কী হারে ভ্যাট বসবে ব্যবসায়ীরা তা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। আমরা তাদেরকে বলেছি, বিদ্যমান যেসব আইন আছে, তাতে বাজেট ঘোষণার আগ পর্যন্ত কোন পণ্যে কত শতাংশ হারে ভ্যাট বসবে, সে তথ্য প্রকাশের কোনো নিয়ম নেই। বাজেট ঘোষণার আগে এসব তথ্য প্রকাশ করা যায় না। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা থাকলে তা পরে সংশোধন ও পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ভ্যাট আইন সংস্কারে এফবিসিসিআই ও এনবিআরের যৌথ উদ্যোগে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ করা হবে। এই গ্রুপ ভ্যাট আইন সংস্কারে ভবিষ্যতে কাজ করবে। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, মন্ত্রী আমাদের বলেছেন কোনো পণ্যে ভ্যাট বাড়বে না। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমবে। এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তবে ভ্যাটের আওতা আরও বাড়বে। ভ্যাটের কারণে পণ্যের দাম বাড়–ক এটা অর্থমন্ত্রীও চান না। তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত কোনো সেক্টরে বা কোনো পণ্যে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেটি নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেবেন। ওটার ওপর আমরা যথেষ্ট আস্থা রেখেছি।’
আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া ভ্যাট আইন নিয়ে সরকার কোনো আলোচনা করছে না বলে অভিযোগ করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে কোন পণ্যে কত শতাংশ ভ্যাট বসবে তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে বলে গত কয়েক দিন ধরে বলে আসছেন তারা। বিষয়টি সুরাহা করতে অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠিও দেওয়া হয়েছিল ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে। এমন বাস্তবতায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।