জনবল ও অবকাঠামো সংকটে পড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। কাজের পরিধি বাড়ায় ৬০ বছর আগে নির্মিত কাস্টমস ভবনটিতে এখন আর জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। তাই ভবনের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প জায়গা খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া অনুমোদিত জনবল কাঠামোর অর্ধেক দিয়েই চলছে রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম। ফলে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা, কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্টরা।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়ায় বাড়ছে কাস্টমস হাউসের কাজের পরিধি। চাপ সামলাতে ভবনটির প্রতিটি জায়গার ব্যবহার নিশ্চিত করার পরও সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার ও বিভিন্ন শাখার কর্মকা- পরিচালনা দুরূহ হয়ে পড়েছে। জায়গার অভাবে পুরনো নথিপত্রগুলো রাখা হয়েছে সিঁড়িঘর ও করিডরে। এ ছাড়া বৃষ্টির সময় ভবনটির বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ে। এতে শুল্কায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি, ফোল্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারটিও রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। গত এক মাসে ভবনটিতে দুই দফা আগুন লাগে। ভবনটিতে দুর্যোগকালীন প্রতিরোধ ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ভবনটিতে রাসায়নিক দ্রব্য সঠিকভাবে সংরক্ষণেরও কোনো ব্যবস্থা নেই।
বর্তমান ভবনের ওপর চাপ কমাতে ২-৩ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবরে দুই দফা চিঠি দিয়েছেন কাস্টমস কমিশনার। চিঠিতে বলা হয়, কাস্টমস হাউসের বর্তমান ভবন দুটিতে চাপ কমানোর জন্য বিকল্প জায়গা প্রয়োজন। বন্দর ভবনের পাশে বোনানজা রেস্তোরাঁর কাছে বরাদ্দকৃত জমিসহ পার্শ¦বর্তী অব্যবহৃত জায়গা থেকে ৩ একরের মতো জমি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসকে বরাদ্দ দিলে বিকল্প ভবন নির্মাণ করে সেখানে কিছু দপ্তর স্থানান্তর হলে বর্তমান ভবনটির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। বন্দর সূত্র জানায়, চিঠির জবাবে জায়গাটি বরাদ্দ দিতে অপারগতা জানিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, সেখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে।
কাস্টমস হাউসের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে বেশিরভাগ রাজস্ব আদায় হয় চট্টগ্রাম কাস্টমসে। বর্তমান ভবনে এখন আর স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তাই বিকল্প ভবন নির্মাণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ২-৩ একর জায়গা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-ব্যবস্থাপক (এস্টেট) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বন্দর আর কাস্টমস এক প্রতিষ্ঠান নয়। কাস্টমসের জায়গার প্রয়োজন হলে তারা সরকারের কাছে চাইতে পারে।’ এ ছাড়া অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে ১ হাজার ২৪৮ পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭০০ জন। প্রথম শ্রেণির ৮৮, দ্বিতীয় শ্রেণির ২১১, তৃতীয় শ্রেণির ২৭০ ও চতুর্থ শ্রেণির ১৫টি পদ খালি রয়েছে।
জনবল সংকটের কারণে একজন কর্মকর্তাকে নিজের কাজের বাইরে একাধিক শাখার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি স্টেকহোল্ডাররাও বঞ্চিত হচ্ছেন কাক্সিক্ষত সেবা থেকে।