সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে শাহাব উদ্দিন (৫০) নামের এক শ্রমিক লীগের কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছাতক থানার ওসি গোলাম মোস্তফাসহ আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন।
মঙ্গলবার রাত ৯টায় ছাতক পৌর শহরের জালালিয়া মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান।
নিহত শাহাব উদ্দিন ছাতক পৌর এলাকার বাগবাড়ি আব্দুস সোবাহানের ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক। আহতদের নামপরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংঘর্ষের পরে ২৫জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী ও তার ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য গবেষণা সম্পাদক শামীম চৌধুরীর মধ্যে পৌর শহরের সুরমা নদীতে পাথর-বালুবোঝাই নৌকা থেকে চাঁদা তোলা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল।
এরই জের ধরে আজ রাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কালাম ও শামীমের সমর্থকরা। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় শ্রমিক লীগের কর্মী সাহাব উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ছাতক থানার ওসি গোলাম মোস্তফাসহ উভয় পক্ষে ৩০জন আহত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর থেকে পৌর শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থলসহ পুরো শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহরিয়ার কবির সায়েম জানান, নিহত সাহাব উদ্দিন ছাতক উপজেলা শ্রমিক লীগের কর্মী ছিলেন।
পুলিশ সুপার বরকউল্লাহ খান বলেন, “দুই ভাইয়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ছাতক শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”