বিকাশ ইউক্যাশে নজরদারি করতে চায় এনটিএমসি

মোবাইল ফোনে আর্থিক লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ, ইউক্যাশসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। তারা বলেছে, এসব মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসগুলোর এজেন্টদের নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ লেনদেন হচ্ছে। এসব অর্থ কে, কোন উদ্দেশ্যে পাঠাচ্ছে, তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে এজেন্টদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে অর্থায়নের আশঙ্কা থেকে নজরদারি ব্যবস্থায় মোবাইল ফোন নেওয়ার কথা বলেছে এনটিএমসি।

সম্প্রতি পাঠানো এনটিএমসির চিঠিতে বলা হয়েছে, এনটিএমসি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সব আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা করে মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সুবিধা দিয়ে থাকে। যেহেতু ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ, ইউক্যাশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সেহেতু এসব সার্ভিস মনিটরিংয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ জন্য এনটিএমসির মনিটরিং ডাটাবেসের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন প্রয়োজন। এটি হলে সব আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ তদন্তে বিশেষ সুবিধা পাবে।

এনটিএমসির চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের ডিজিটালাইজেশনের ক্রমধারায় অন্যান্য সেক্টরের পাশাপাশি ফিন্যান্সিয়াল লেনদেন বাড়ছে। সব সরকারি প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন করছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে বিকাশ, ইউক্যাশ, নগদসহ বিভিন্ন ধরনের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সেবা চালু হয়েছে। এর ফলে আর্থিক লেনদেন আরও সহজ হয়েছে। জনগণ দ্রুত লেনদেন করতে পারছে। এ ধরনের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যেই টাকা পাঠানো ও গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে। এসব সার্ভিসের মাধ্যমে জনগণ প্রতারণারও শিকার হচ্ছে। এসব সার্ভিস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লেনদেন করায় এবং রিটেইলার বিকাশ নম্বর হওয়ার কারণে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়ছে।